দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহে একটি জনস্বার্থ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, বেসরকারি ল্যাবগুলিকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টেস্ট করতে হবে। ওই রায় পর্যালোচনার জন্য বেসরকারি ল্যাবগুলির তরফে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়। তার ভিত্তিতে সোমবার শীর্ষ আদালত রায় দিল, প্রাইভেট ল্যাবে শুধুমাত্র গরিব মানুষদেরই করোনা পরীক্ষা হবে বিনামূল্যে।
এদিন রিভিউ মামলার রায়ে বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট রায় দেন, ল্যাবগুলি তাদের আর্থিক সাধ্যের কথা আদালতকে জানিয়েছিল। সেই আর্জি মাথায় রেখেই বলা হচ্ছে, সবার জন্য নয়, বেসরকারি ল্যাবে শুধুমাত্র আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া করোনা পরীক্ষা হবে বিনামূল্যে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে গরিব কারা?
আদালত এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রকে। দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, কাদের বেসরকারি ল্যাবে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা হবে তার একটা অর্থনৈতিক ক্যাটেগরি তৈরি করতে। প্রসঙ্গত, এমনিতেই 'আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী আরোগ্য যোজনা'য় যাঁদের নাম আছে তাঁরা সবাই এই সুবিধা পাবেন।
সরকার করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করুক বলে দাবি তুলেছিল একাধিক বেসরকারি ল্যাব। কয়েকটি ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোভিড ১৯ পরীক্ষা করতে অনেক খরচ হয়। বিনা পয়সায় ওই টেস্ট করার সঙ্গতি তাঁদের নেই।
ডক্টর ডাংস ল্যাবরেটরির সিইও অর্জুন ডাং বলেন, “ওই টেস্ট খরচসাপেক্ষ। তাতে নানারকম রাসায়নিক লাগে। প্রয়োজন দক্ষ কর্মীর। কেউ যাতে পরীক্ষা করতে গিয়ে সংক্রমিত না হন সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হয়। এত কিছু সামলে বিনামূল্যে টেস্ট করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই।"
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য ৪৫০০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। তারপর বিনামূল্যে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। কিন্তু সেই রায়েও বদল হল এদিন। এখন দেখার কেন্দ্রীয় সরকার কী ক্যাটেগরি নির্ধারণ করে।