দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইনের সমর্থক ও প্রতিবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন দেখা গিয়েছিল এক যুবক বন্দুকে উঁচিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এক নিরস্ত্র কনস্টেবলের দিকে। লাল টি শার্ট পরা শাহরুখের এই ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কয়েক দিন পরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এবার শাহরুখের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হল তার বন্দুক। এই বন্দুক থেকেই ৮ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল প্রতিবাদীদের দিকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শাহরুখকে গ্রেফতার করার পর থেকে লাগাতার তাকে জেরা করছে পুলিশ। তার পরিবারের বাকিদেরও খোঁজ চলছে। এর মধ্যেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় এই বন্দুক। যত্ন করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বন্দুকটি। সেটিকে ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। এই বন্দুক পরীক্ষা করে অনেক তথ্য জানা যেতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। কী ভাবে এই বন্দুক শাহরুখের কাছে এল, সে ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার অজিত শিংলার নেতৃত্বে একটি দল শামলীর বাসস্টপ থেকে পাকড়াও করে শাহরুখকে। পুলিশ জানিয়েছে, শাহরুখের ছবি ভাইরাল হওয়ার পরেই দিল্লি থেকে পিঠটান দেয় সে। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, দিল্লি থেকে পালিয়ে জলন্ধরের দিকে রওনা দিয়েছিল শাহরুখ। সেখানে একজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তার। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত সে বদলায়। জলন্ধরের বদলে বরেলীতে গিয়ে পৌঁছয়।
জানা গিয়েছে, কন্নট প্লেসের কাছে পার্কিং লটের একটি গাড়ির মধ্যে শাহরুখ ঘাপটি মেরেছিল দীর্ঘ সময়। তদন্তকারীরা বলেছেন, বরেলী যাওয়ার আগে পানিপত, আমরোহা ও কাইরানাতেও কিছু সময় কাটিয়েছিল শাহরুখ। বরেলীতে যখন দেখে সে আর সুরক্ষিত নয়, তখন সেখান তেকে পালিয়ে যায় শামলী। হাতেনাতে ধরা পড়ে সেখানেই। শাহরুখের গোটা পরিবারই নাকি নিখোঁজ। তাদের খোঁজ চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শাহরুখের নিজের একটি কারখানা রয়েছে। সেখানকারই কোনও এক কর্মীর থেকে পিস্তলটি কিনেছিল সে। জেরায় শাহরুখ বলেছে, তার বোন জাফরাবাদে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। জাফরাবাদ-মৌজপুরে যখন হিংসার আগুন জ্বলছিল তখন উন্মত্ত বিক্ষোভকারীদের মাঝে পড়ে গিয়েছিল তার বোন। তাকে বাঁচাতেই নাকি পিস্তল নিয়ে ছুটে গিয়েছিল সে। তদন্তকারীরা বলেছেন, সেদিন শাহরুখের হাতে সেমি অটোমেটিক ৭.৬৫ বোরের পিস্তল ছিল। মনে করা হচ্ছে বিহারের মুঙ্গের থেকে এই পিস্তল তার হাতে এসেছিল। বিক্ষোভের দিন এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ছিল শাহরুখ। শাহরুখের গুলিতে সেদিন কেউ জখম হয়েছিলেন কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।