দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনাদের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়েছে তা নিয়ে মঙ্গলবার সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংবাদসংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয় শঙ্কর। রাত ১০ টা নাগাদ বৈঠক শুরু হয়। চলে অনেক রাত পর্যন্ত।
মঙ্গলবার দুপুরের পরই সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে জানা যায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্নেল ও দুই জওয়ান চিনা সেনাদের হামলায় নিহত হয়েছেন। তারপর এও জানা যায়, শুধু ভারতীয় জওয়ানরা মারা যাননি। পাল্টা আঘাতে চিনা সেনাদেরও প্রাণ গিয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায়। চিনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস সে কথা স্বীকারও করে নেয়।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই বৈঠক চলে প্রায় ছ'ঘণ্টা। তারপর ফের প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সেই বৈঠকের আগেই অবশ্য খবর আসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন জন জওয়ান নন। মোট ২০ জন শহিদ হয়েছেন। সঙ্গে এও জানা যায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। যদিও বেজিংয়ের তরফে ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
নয়াদিল্লির তরফে বেজিংয়ের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক স্তরে আলোচনা করতে ভারত রাজি, কিন্তু কোনও ভাবেই দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতার প্রশ্নে আপস করা হবে না।
চিনের বক্তব্য, ভারতীয় সেনারাই সীমানা পেরিয়ে প্রথমে হামলা চালায়। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭৫ সালের পর চিনা সেনার হামলায় এই প্রথম ভারতীয় সেনার প্রাণ গেল। তাও আবার একসঙ্গে ২০ জনের। এমনিতে চিন ভারত সীমান্তে দুই বাহিনীর মধ্যে হামেশাই সংঘাত ঘটে। কিন্তু এবার তা হতাহতের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। যা নিয়ে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক চাপ ও পাল্টা চাপ চলছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুই বাহিনীর এই যে প্রায় ৬০৬৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বা অনেকে আহত হয়েছেন এই গোটা সংঘর্ষে একটাও গুলি চলার ঘটনা ঘটেনি বলে খবর। পুরোটাই লাঠি, রড, পাথর ছোড়াছুড়ির মাধ্যমে হয়েছে।
এর মধ্যেও দুই বাহিনীর কম্যান্ডর স্তরে আলোচনা চলছে। দিল্লি জানিয়েছে, ভারত সরকার চায় সীমান্তে উত্তেজনা নিরসন হোক। প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন থেকেই এই আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই সোমবার ও মঙ্গলবারের মাঝের রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে লাদাখ সমস্যা মেটে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।