করোনা মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব, বিশ্বের নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে মোদী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। বেশিরভাগ দেশ ব্যস্ত এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। আর এই লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রন
শেষ আপডেট: 30 April 2020 09:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। বেশিরভাগ দেশ ব্যস্ত এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। আর এই লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রনায়কদের থেকে মোদীর ভূমিকা অনেক বেশি প্রশংসা পাচ্ছে। আর তার ফলেই তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মার্কিন এক সংস্থার করা সার্ভে রিপোর্টেই এই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
ভোটের বিচারে বিশ্বের ১০টি দেশের প্রধানদের মধ্যে একটি সার্ভে করেছে মার্কিন সার্ভে সংস্থা মর্নিং কনসাল্ট। প্রতিটি দেশের মানুষ করোনা মোকাবিলায় তাঁদের রাষ্ট্রনায়কদের ভূমিকা অনুযায়ী ভোট করেছেন। সেই সার্ভের বিচারে সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু বেশি পয়েন্ট পাওয়া নয়, তাঁর এই গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধমুখী।
এই সার্ভে রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরের শুরুতে ভারতে মোদীর জনপ্রিয়তা ছিল ৭৬ শতাংশ। সেটাই বেড়ে ২১ এপ্রিল হয়েছে ৮৩ শতাংশ। আইএএনএস-সি ভোটারের করা আর একটি সার্ভে জানাচ্ছে, এক মাসে আগে অর্থাৎ ২৫ মার্চ মোদীর জনপ্রিয়তা ছিল ৭৬.৮ শতাংশ। সেটাই ২১ এপ্রিল বেড়ে হয়েছে ৯৩.৫ শতাংশ।
মর্নিং কনসাল্টের করা সার্ভের বিচারে জনপ্রিয়তায় মোদীর পরে রয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর। তিনে রয়েছে ব্রিটেনের প্রাইম মিনিস্টার বরিস জনসন। এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জাপানের প্রাইম মিনিস্টার শিনজো অ্যাবে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো, কানাডার প্রাইম মিনিস্টার জাস্টিন ট্রুডো ও অস্ট্রেলিয়ার প্রাইম মিনিস্টার স্কট মরিসন রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের পয়েন্টই মোদীর থেকে অনেক কম।
কয়েক মাস আগে ছবিটা অবশ্য এরকম ছিল না। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশজুড়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছিল। আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু কোভিড ১৯ সংক্রমণের পর থেকে ছবিটা বদলে গিয়েছে। ভাইরাস মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করেছেন মোদী। গরিবদের সাহায্যের জন্য একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। রাজ্যগুলিকেও সাহায্য করা হচ্ছে। বিরোধীরাও এই মুহূর্তে ভাইরাস মোকাবিলা নিয়েই ব্যস্ত।
এই সময়ের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতেও একটা ভাল প্রভাব ফেলেছেন মোদী। আমেরিকা দাবি করেছে, অ্যান্টি ম্যালেরিয়া ড্রাগ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন করোনা মোকাবিলায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর থেকে বিভিন্ন দেশে এই ওষুধ সরবরাহ করেছে ভারত। করোনা মোকাবিলায় রাষ্ট্রপুঞ্জ, সার্ক সহ একাধিক সংগঠনে আর্থিক সাহায্য করেছে ভারত। এর প্রভাব পড়েছে মোদীর জনপ্রিয়তায়।
তবে করোনা সংক্রমণ মিটে গেলে এই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা মোদীর পক্ষে কঠিন হতে পারে বলেই মনে করছেন অ্যানালিস্টরা। তাঁদের বক্তব্য, একবার করোনা সংক্রমণ দূর হলে দেশের অর্থনীতিকে তুলে ধরা মোদীর প্রাথমিক কাজ হতে চলেছে। এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে তাঁর। সেইসঙ্গে এই মহামারীর ফলে একটা বড় অংশের যুবক চাকরি হারাতে পারেন। এই সমস্যাও তাঁর জনপ্রিয়তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার করোনা উত্তর দেশের অর্থনীতিকে তুলে ধরতে কী ভূমিকায় দেখা যায় নরেন্দ্র মোদীকে।