দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর গর্ব করতে পারে সংঘ, মোদীর পরাক্রমই দেশে ফেরালো উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান, এমনটাই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় বায়ুসেনা পাইলটের দেশে ফেরার কৃতিত্ব পুরোটা প্রধানমন্ত্রীকেই দিলেন স্মৃতি।
শুক্রবার বিজেপি নেতা শুধাংশু মিত্তলের লেখা, 'আরএসএস: বিল্ডিং ইন্ডিয়া থ্রু সেবা' নামক একটি বইয়ের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। সেখানেই এই মন্তব্য করেন তিনি। স্মৃতি বলেন, "আজ, সংঘ গর্ব করতে পারে যে দেশের এক সন্তান ৪৮ ঘণ্টা পর দেশে ফিরছে। এটা সম্ভব হয়েছে সংঘের এক স্বয়ংসেবকের পরাক্রমের ফলে।" বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে সংঘের এক স্বয়ংসেবক ছিলেন মোদী।
তবে এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এমনিতেই বিরোধীরা অভিযোগ করছে, দেশের বীর জওয়ানদের বলিদান নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি, সেখানে স্মৃতির এই বক্তব্য সেই আগুনে ঘি ঢালার কাজ করবে। বুধবার ২১টি বিরোধী দলের নেতৃত্ব এই অভিযোগই তুলেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের ত্যাগ, বলিদান নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি করছে দেশের শাসকদল। তাঁরা অভিযোগ করেন, দেশের বীর জওয়ানদের বলিদানের সৌধ 'ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের' উদ্বোধনে গিয়েও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এতেই বোঝা যাচ্ছে, সব কিছুতেই তিনি রাজনীতি টেনে আনেন।
প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি প্রশ্ন করেন, বালাকোটের হামলায় ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে কত জঙ্গি মারা গিয়েছিল, তার কোনও সঠিক তথ্য কি কেন্দ্রের কাছে আছে? যদি আছে তাহলে সেটা দেখানোর দাবি জানিয়েছিলেন মমতা। তাঁর এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিজেপির তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। দিলীপ ঘোষ বলেছেন, মমতা যে প্রশ্ন তুলছেন, তা পাকিস্তানেরও তোলার হিম্মত হয়নি। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নিজে মমতার উদ্দেশে বলেন, মোদীকে ঘৃণা করতে করতে কেউ কেউ দেশকেই ঘৃণা করতে শুরু করেছে।
তবে এই সভা থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের তরফে এই ধরণের কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আরএসএস-এর জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি দত্তাত্রেয় হোসাবলে এই অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে গোটা দেশ অপেক্ষা করছিল উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের ঘরে ফেরার। এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে দেশের মানুষের মধ্যে কতটা দেশপ্রেম আছে।
বিজেপি নেতা শুধাংশু মিত্তলের এই বইয়ে মূলত, ভারত গড়তে আরএসএস-এর অবদানের কথা উল্লেখ করা আছে। লেখা রয়েছে, ভারতে বিভিন্ন সময়ে এই সংস্থার উপর আঙুল উঠেছে। অনেকেই চেষ্টা করেছেন এই সংস্থার ক্ষতি করতে। কিন্তু আসলে সংঘ হলো দেশ গড়ার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন
https://thewall.in/pakistan-creates-psy-ops-by-releasing-videos-of-avinandan/