দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষক আন্দোলনে আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না বলে আগেই স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রিহানা, গ্রেটা থুনবার্গ, মিয়া খালিফা সহ একের পর এক আন্তর্জাতিক তারকারা ভারতের কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে মুখ খোলায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে আমেরিকা জানিয়েছে, যে কোনও আন্দোলনই শান্তিপূর্ণভাবে হলে তবেই তার গুরুত্ব বাড়ে। শান্তি ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আন্দোলনই ভারতীয় গণতন্ত্রের পরিচয় দেয়।
ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে আগেও মুখ খুলেছিল আমেরিকা। মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা বিদেশসচিব মাইক পম্পেওকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ভারতীয় কৃষকদের আন্দোলনের অধিকারের পক্ষেই আছে ওয়াশিংটন। আমেরিকা সব সময়েই বাক্স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়।
কৃষক আন্দোলন ঘিরে বিদেশি রাজনীতিবিদদের মন্তব্য যে অনভিপ্রেত, তা আগেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষকদের আন্দোলন যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তা প্রকারন্তরে স্বীকার করেছেন আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যরাও। তা সত্ত্বেও আন্দোলনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন অনেকেই। আমেরিকার কংগ্রেসের সদস্য হ্যালে স্টিভেন বলেছেন, “জাতীয় আইনসভার সদস্য হিসেবে আমরা ভারত সরকারের জাতীয় নীতি বলবৎ করার অধিকারকে কদর করি। আমরা এটাও স্বীকার করি যে, ভারতে এবং বিদেশে যাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে কৃষি আইনের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের সে অধিকার রয়েছে।“
https://twitter.com/IlhanMN/status/1357088420443602944
কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমারের বক্তব্য, “নিজেদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্যই আন্দোলন করছেন কৃষকরা। ভারত সরকারের উচিত তাঁদের সে অধিকার পাইয়ে দেওয়া। আন্দোলনকারীদের যোগ্য মর্যাদা দেওয়া। যে সমস্ত জায়গায় ইন্টারনেট ও অন্যান্য পরিষেবা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তা ফের চালু করা, কৃষক আন্দোলনের খবর যাঁরা সামনে আনছিলেন যেই সাংবাদিকদের মুক্ত করা।“
https://twitter.com/meenaharris/status/1356747965713371138
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ভাইঝি মীনা হ্যারিস বলেছেন, পৃথিবীর প্রাচীনতম গণতন্ত্র আজ বিপর্যস্ত। যেভাবে ভারতের কৃষক আন্দোলনে হিংসা ছড়াচ্ছে তাতে আমরা মর্মামত।
ভারতে কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে পপ তারকা রিহানার টুইট ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। তারই জবাবে পাল্টা সুর চড়িয়েছে ভারতও। ভারতের ঐক্য ভাঙার জন্য একটা প্রচার চালানো হচ্ছে বলে আগেই মন্তব্য করেছেন বেশ কিছু বিজেপি নেতা। একই কথা শোনা গিয়েছে অনেক বলিউড তারকা থেকে শুরু করে শচীন তেণ্ডুলকরের মতো ক্রিকেট তারকার মুখেও। আন্তর্জাতিক জনমতকে ‘ভারত-বিরোধী’ বলে সরকারের তরফে #ইন্ডিয়াএগেনস্টপ্রোপাগান্ডা হ্যাশট্যাগও চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, “কোনও স্বার্থান্বেষী প্রচার ভারতের ঐক্য ভাঙতে পারবে না। কোনও স্বার্থান্বেষী প্রচার ভারতকে নতুন উচ্চতায় যাওয়া থেকে আটকাতে পারবে না। কোনও স্বার্থান্বেষী প্রচার ভারতের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারবে না, শুধুমাত্র উন্নয়ন পারবে। ভারত ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।”