দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় মহারাষ্ট্রের বিদ জেলা প্রশাসনকে কড়া ধমক দিল বম্বে হাইকোর্টের ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট করে এদিন বলেন, কেউ সিএএ-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেই তিনি বিশ্বাসঘাতক বা দেশদ্রোহী নন।
ইফতিকার শেখ নামের এক বছর ৪৫-এর ব্যক্তি বিদ জেলার একটি জনবহুল স্থানে সিএএ, এনআরসি ও এনপিআরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য আবেদন করেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। কিন্তু বিদের জেলা প্রশাসন সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। সোজাসাপ্টা বলে দেয়, কোনও আইনের বিরুদ্ধে এই ধরনের আন্দোলনে অনুমতি দেওয়া হবে না।
এরপর ওই ব্যক্তি সরাসরি বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। শনিবার ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানিতেই ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি টিভি নালাভাড়ে এবং এমজি সেউলিকর বলেন, “আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু তা ছিল অহিংস। আজও সেই ধারা চলছে। এবং আমাদের সৌভাগ্য দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও অহিংস আন্দোলনের পথেই রয়েছেন।”
ডিভিশন বেঞ্চ আরও বলে, “কোনও আইন নিয়ে কারও আপত্তি থাকতেই পারে। আদালত তাঁর সেই মত প্রকাশের অধিকারকে সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর।” তবে শুনানি চলাকালীন ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতিই বারবার আন্দোলন বা বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ করার কথা বলেন।
সংবিধান উল্লেখ করে ডিভিশন বেঞ্চ এ-ও বলে, “আমাদের দেশে আইনের শাসন চলে। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়। সুতরাং কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ যদি মনে করেন, যে নির্দিষ্ট কোনও আইন তাঁর সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারকে আঘাত করছে, তাহলে তিনি বা তাঁরা বিক্ষোভ, আন্দোলন করতেই পারেন।”
শাহিনবাগ থেকে জামিয়া মিলিয়া, লখনউ থেকে কলকাতার পার্কসার্কাস—দেশের একাধিক জায়গায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। মূলত এই বিক্ষোভের সামনের সারিতে রয়েছেন সংখ্যালঘু মহিলারা। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে বারবার সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারীদের তোপ দাগা হয়েছে। কখনও বলা হয়েছে দেশদ্রোহী, কখনও পাকিস্তানের এজেন্ট। সেদিক থেকে এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।