দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিন গল্প করতে করতে স্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন, হেলিকপ্টার চাপতে কত খরচ?
সে অনেক বছর আগের কথা। সে দিন স্ত্রীর কথা এড়িয়ে গিয়েছিলেন রাজস্থানের আলোয়ার জেলার স্কুল শিক্ষক রমেশচন্দ্র মিনা। স্ত্রীও আর সে সব মনে রাখেননি। ওরকম তো কত কথাই হয়! কিন্তু রমেশবাবু মনে রেখে দিয়েছিলেন। আর মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলেন, স্বপ্ন সত্যি করবেন। করলেনও তাই। চাকরিজীবন থেকে অবসরের দিনেবাড়ি থেকে হেলিকপ্টারে উড়ে স্কুলে গেলেন রমেশচন্দ্র মিনা। পাশে বসালেন স্ত্রী আর নাতিকে।
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে রমেশবাবুর গ্রাম। শনিবার ছিল তাঁর চাকরিজীবনের শেষ দিন। ফেয়ারওয়েল ছিল স্কুলে। আগের দিনই স্ত্রীকে বলে রেখেছিলেন, তৈরি থেকো। স্কুলে যেতে হবে। স্ত্রী ভেবেছিলেন, বাসে চেপেই স্বামীর সঙ্গে তাঁর স্কুলে যাবেন। যানও বাসে চেপে। কিন্তু ফেরার সময়েই চমকে দেন স্বামী। স্কুল থেকে কিছুটা দূড়েই একটি মাঠে স্ত্রীকে নিয়ে যান রমেশবাবু। চারিদিকে লোকজন জড়ো হয়ে গিয়েছে। মাঠে দাঁড়িয়ে রয়েছে আস্ত একটা হেলিকপ্টার।
স্ত্রী জানতে চান, এখানে কী হবে? রমেশবাবু তাঁকে বলেন, আমরা এতে চেপেই স্কুলে যাব। আকাশে ওড়ার আগেই আকাশ থেকে পড়েন রমেশবাবুর স্ত্রী। রমেশ বাবু মনে করান, বহু বছর আগে হেলিপটারে চাপার খরচ জানতে চেয়েছিলে তুমি।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে রমেশবাবু বলেন, “৩ লক্ষ ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে হেলিকপ্টার ভাড়া করতে। দিল্লি থেকে এসেছে হেলিপ্টার।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “সাকুল্যে স্কুলের মাঠ থেকে বাড়ির কাছ পর্যন্ত হেলিপ্টার নামতে সময় লেগেছে ১৮ মিনিট। কিন্তু এই সময়টা আমরা দারুণ উপভোগ করেছি।”
কয়েকদিন আগেই দেখা গিয়েছিল, বিহারের মিথিলেশ প্রসাদ নামের এক চাষির ঘরের সন্তান হেলিকপ্টারে চাপার সাধ পূরণ না হওয়ায় একটা চার চাকা গাড়িকেই কপ্টারের আদল দিয়েছিলেন। কিন্তু রমেশবাবু স্ত্রীর স্বপন সত্যি করলেন। উড়লেন আকাশে। নিজের অবসরের দিনে।