দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়মিত আরএসএসের শাখায় যেতেন মডেল-অভিনেতা মিলিন্দ সোমন। 'মেড ইন ইন্ডিয়া: এ মেমোয়ার' নামক একটি বইতে নিজেই একথা জানিয়েছেন মুম্বইয়ের মডেল-অভিনেতা। সেইসঙ্গে তিনি বইতে এও লিখেছেন, আরএসএস সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে তিনি আজকাল যা শোনেন বা পড়েন, তার সঙ্গে তাঁর শাখা-জীবনের অভিজ্ঞতার কোনও মিলই নেই।
ওই বইতে মিলিন্দ লিখেছেন কী ভাবে তিনি আরএসএসের শাখায় যুক্ত হয়েছিলেন। শিশু বয়সে মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কের শাখায় ভর্তি করে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। তারপর একটা বড় সময় পর্যন্ত সপ্তাহে পাঁচদিন সঙ্ঘের শাখায় যেতেন মিলিন্দ। তিনি লিখেছেন, "শরীর চর্চা, যোগ ব্যায়াম, সাঁতার--এসবই করতাম সবাই মিলে। আমাদের শেখানো হতো সুষ্ঠু দেশ গঠনে সুস্থ শরীর গঠন করা কতটা জরুরি।"
তাঁর বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। এখনও তাঁর শরীরের গঠন দেখলে মোহিত হন বহু তরুণ-তরুণীর। বছরে অন্তত তিনটি ম্যারাথনে ছোটেন মিলিন্দ। এখনও প্রতিদিন সাড়ে তিনঘণ্টা সাঁতার তাঁর রুটিন। এহেন মিলিন্দ বইতে লিখেছেন, তাঁর শরীর গঠনের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়েছে সঙ্ঘের শাখার পরিমণ্ডল থেকেই।
মেড ইন ইন্ডিয়া: এ মেমোয়ার' বইতে বহু ম্যারাথনের নায়ক লিখেছেন, "প্রথম প্রথম শাখায় যেতে ভাল লাগত না। কিন্তু বাবা জোর করে নিয়ে যেতেন। আস্তে আস্তে ওখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিলাম।" রসিকতা করে এক জায়গায় মিলিন্দ লিখেছেন, "আমাদের সংস্কৃত উচ্চারণে অনেক কিছু পাঠ করতে হতো। ছোটবেলায় মানে না বুঝেই সেসব করতাম।"
ওই বইতে মিলিন্দ আরও লিখেছেন, "আমার বাবা কট্টর হিন্দুত্ববাদী ছিলেন। তা নিয়ে তাঁর গর্বও ছিল। আমি বুঝতাম না এতে গর্বের কী আছে! তবে অন্যায়ও নেই।" স্পষ্ট লিখেছেন, "আরএসএসের শাখায় আমাদের ধর্ম নিয়ে কিচ্ছু বলা হতো না। হিন্দুত্বেরও পাঠ দেওয়া হয়নি কখনও। শরীর চর্চার বিষয়টিই সেখানে মুখ্য ছিল।" তিনি লিখেছেন, "আজ যখন সংবাদমাধ্যমে আরএসএস সম্পর্কে শুনি সাম্প্রদায়িক অভিযোগ, তখন আমি মেলাতে পারি না। আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু একদম আলাদা।