দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। কিন্তু এই মৃত্যুর ৭৫ শতাংশই ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেইসঙ্গে ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃতের শারীরিক কোনও সমস্যা ছিল বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোভিড ১৯-এ ভারতে মৃত্যুর হার ৩.৩ শতাংশ। মৃতদের বয়স হিসেবে ভাগ করলে দেখা যাচ্ছে ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুর হার ১৪.৪ শতাংশ। ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১০.৩ শতাংশ। ৬১ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৩৩.১ শতাংশ এবং ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৪২.২ শতাংশ। অর্থাৎ এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে ভারতে করোনায় মৃত্যুর ৭৫ শতাংশই ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হয়েছে।”
এদিন লব আগরওয়াল আরও বলেন, “ভারতে কোভিড ১৯-এ মৃতদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের কো-মর্বিডিটির সমস্যা ছিল। অর্থাৎ এই ৮৩ শতাংশের হৃদযন্ত্রের, শ্বাসযন্ত্রের বা ফুসফুসের সমস্যা ছিল।”
পরিসংখ্যান বিচার করলে গোটা বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডটা একই রকমের। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বয়স্কদের মধ্যেই বেশি। যদিও ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেই বেশি রয়েছে। এর একটা অন্যতম কারণ দিল্লির নিজামুদ্দিনের মসজিদে তবলিঘি জামাতের জমায়েত বলেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কিন্তু মৃত্যুর ক্ষেত্রে গোটা পৃথিবীর মতো ভারতের ট্রেন্ডটাও একই রকমের।
এর কোনও স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকলেও মনে করা হচ্ছে বয়স্কদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকায় ও বয়স হলে এমনিতেই অনেক বার্ধক্যজনিত অসুখ হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। সেই তুলনায় অল্পবয়সীরা অনেক বেশি পরিমাণে কোভিড ১৯ মোকাবিলা করতে পারছেন। তাই মৃত্যুও কম হচ্ছে।