দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে বিজেপি কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশে ভাঙা-গড়ার খেলায় ফুল মার্ক্স পেয়ে সরকার গড়েছিল তারাই কিনা ঘোর সংকটে!
বুধবার বিজেপির তিন বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর আজ বিষ্যুদবার জানা গেল জোট শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে ক্যাবিনেটে জায়গা পাওয়া চার মন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী ওয়াই জয়কুমার সিংও। ফলে রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, মণিপুরের বিজেপি জোট সরকারের অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়ে গিয়েছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী লেটপাও হাওকিপ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এল জয়ন্ত কুমার সিং এবং উপজাতি ও পাহাড়ি এলাকা উন্নয়ন মন্ত্রী এন কায়িশি তাঁদের ইস্তফাপত্র মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
গতকালই বিজেপির তিন বিধায়ক সুভাষচন্দ্র সিং, টিটি হাওকিপ এবং স্যামুয়েল জেন্ডাই দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
উত্তর-পূর্বের পাহাড় ছোট্ট রাজ্যটির বিধানসভার মোট আসন ৬০টি। প্রথমে তিন বিধায়কের দলত্যাগ ও পরে চার মন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়ায় বিজেপির পক্ষে সমর্থন থাকছে ১৮ বিধায়কের।
মণিপুর নিয়ে এমনিতেই কংগ্রেসের অভিযোগ কম ছিল না। কংগ্রেসের নেতারা সমালোচনা করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না নিয়েও কী ভাবে টাকার জোরে সরকার গড়া যায় তা বিজেপি দেখিয়ে দিয়েছে। তবে এই ভাঙনের ফলে গুরুতর অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গিয়েছে মণিপুরের গেরুয়া শিবির।
গত কয়েক বছরে উত্তর-পূর্বের একের পর এক রাজ্যে জয়ধ্বজা উড়িয়েছিল গেরুয়া শিবির। অসমের সরকার গড়া থেকে ত্রিপুরার বাম সরকারের পতন ঘটানো-- সবই করেছিল অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপি। তার মধ্যে মণিপুরও ছিল। কিন্তু সেখানে সংখ্যার জোর ছিল না। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম থেকেই পলকা ভিতের উপরে দাঁড়িয়েছিল মণিপুরের সরকার। এখন তা আরও টলমল।