দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণের জেরে চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউন চলছে। আপাতত ৩১ মে পর্যন্ত রয়েছে এই লকডাউনের মেয়াদ। তার মধ্যেই ২৫ মে থেকে অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। যদিও মুম্বই বিমানবন্দরের আধিকারিকদের দাবি, সব রকমের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তাঁরা তৈরি।
সম্প্রতি অসামরিক বিমানমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানান, অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা শুরু করা হচ্ছে ২৫ মে থেকে। সংক্রমণের মধ্যেই ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কাজ শুরু করতে হবে আমাদের। এই ঘোষণার পরেই বিভিন্ন বিমানসংস্থা টিকিট বুকিং শুরু করে। বিমান চলাচল শুরু হলেও বেশ কিছু নিয়ম যাত্রীদের মেনে চলতে হবে বলেই জানানো হয়েছে।
এই ঘোষণার পরে রবিবার মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ বলেন, "সরকার রেড জোনে বিমানবন্দর খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুবই অবিবেচকের মতো কাজ করেছে। কারণ এর ফলে আরও বেশি থার্মাল স্ক্রিনিং, আরও বেশি টেস্ট করতে হবে। যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বাস, ট্যাক্সির পরিষেবা বাড়াতে হবে। রেড জোনের পক্ষে তা আরও ভয়ের কারণ।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "গ্রিন জোন থেকে মানুষকে রেড জোনে এনে ফেলার সিদ্ধান্ত আমি বুঝতে পারছি না। বিমান পরিষেবা চালু হলে বিমানবন্দরেও কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। ফলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে।"
মন্ত্রী এই কথা বললেও মুম্বই বিমানবন্দরের আধিকারিকরা অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তাঁদের দাবি, সব রকমের পরিস্থিতির জন্য তাঁরা তৈরি। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী সব রকমের ব্যবস্থা তৈরি রেখেছেন। এর আগেই কার্গো বিমান ও স্পেশ্যাল বিমান এখানে চলাচল করেছে। তাই এক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।
ভারতে করোনা সংক্রমণ সবথেকে বেশি ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭১৯০। তার মধ্যে আবার বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের অবস্থা সবথেকে খারাপ। এই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৮১৭। মুম্বইয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৪৯ জনের।
এই সংক্রমণের মধ্যেই একাধিক পরিষেবায় ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থনৈতিক কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বিমান ও রেল পরিষেবা রয়েছে। ২৫ মে থেকে বিমানের পর ১ জুন থেকে ২০০ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।