ভারতে কোভিড ১৯ সংক্রমণের ২৬ শতাংশ শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রেই, মৃত্যুর ৩৯ শতাংশও এই রাজ্যেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৯৮৪। ইতিমধ্যেই কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে ৬৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে
শেষ আপডেট: 22 April 2020 04:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৯৮৪। ইতিমধ্যেই কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে ৬৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য এর মধ্যে ৩৮৭০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দেশে কোভিড অ্যাকটিভ ১৫৪৭৪ জন। কিন্তু এই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সিংহভাগই শুধুমাত্র একটাই রাজ্যে, মহারাষ্ট্রে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫২১৮। অর্থাৎ ভারতের মোট আক্রান্তের সংখ্যার শতাংশে বিচার করলে তা ২৬.১১ শতাংশ। মানে দেশের চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি আক্রান্ত শুধুমাত্র একটা রাজ্যেই।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান তো আরও বেশি। মহারাষ্ট্রে কোভিড ১৯ সংক্রমণ হয়ে এখনও পর্যন্ত ২৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের মোট মৃত্যুর ৩৯.২২ শতাংশ শুধু মহারাষ্ট্রেই হয়েছে। অর্থাৎ ভারতে করোনা মৃত্যুর অর্ধেকের কাছাকাছি শুধু মহারাষ্ট্রেই হয়েছে।
এবার গত ১৫ ঘণ্টার বিচার করলেই কী ভাবে দেশের মোট করোনা আক্রান্তের বৃদ্ধিতে মহারাষ্ট্র প্রধান ভূমিকা নিচ্ছে, তা বোঝা যাবে। ভারতে গত ১৫ ঘণ্টায় ৯৯৯ জন নতুন করে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে গত ১৫ ঘণ্টায় শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রেই ৫৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ গত ১৫ ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্তের ৫৫ শতাংশ শুধুমাত্র মারাঠা রাজ্যেই হয়েছে। গত ১৫ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যুরও ৫১ শতাংশ মহারাষ্ট্রেই হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট কী ভাবে একটা রাজ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার প্রভাব দেশের উপর পড়ছে। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই মুম্বই, পুনে, নাগপুরের মতো বড় শহরগুলিকে রেড জোনের আওতায় ফেলা হয়েছে। মুম্বইয়ে আবার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে একটা বড় ভূমিকা নিচ্ছে ধারাভি, যা এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাজ্যের মানুষ সচেতন না হলে ও লকডাউনের নিয়ম ঠিকমতো পালন না করলে এই লকডাউন আরও বাড়ানো হবে। কেন্দ্রও এই একটা রাজ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে চিন্তিত। এই রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সংখ্যাটা বেড়েই চলেছে।