দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ঠেকাতে সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে জনতা কার্ফু। ঠিক তার আগেই টুইট করে এই কার্ফুতে অংশ নেওয়ার আবেদন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন মোদী লেখেন, বাড়িতে থেকে অংশ নিন কার্ফুতে। কোটি কোটি দেশবাসীর শক্তি দিয়েই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে জনতা কার্ফুর কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যত সকাল থেকেই গৃহবন্দি ভারত। অনেকের বক্তব্য, এদিন কী হচ্ছে সেটা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, 'ঘরে থাকুন,সুস্থ থাকুন'।
জনতা কার্ফুর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, জনতার জন্য, জনতার দ্বারা, স্বেচ্ছায় আরোপিত কার্ফু। এদিন সকালে ফের একবার আবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি কোনও কাজ না থাকলে রাস্তায় বেরোবেন না। তাহলেই করোনাকে রুখে দেওয়া যাবে।
রবিবার সকাল পর্যন্ত খবর, ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৫। সবচেয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে শনিবার সন্ধের পর হদিশ মেলা পুণে ও কলকাতার দুই রোগীর পজিটিভ হওয়ার ঘটনা। কারণ, এই দু'জনেরই বিদেশ যাওয়া বা বিদেশ থেকে ফেরার কোনও অতীত নেই। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি ভারতেও গোষ্ঠী সংক্রমণ বা স্টেজ থ্রি শুরু হয়ে গেল? যদিও এখনও তা মনে করছে না কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। ইতিমধ্যেই চিন থেকে শুরু হওয়া প্রকোপ সারা ইউরোপকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে ছেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা হু জানিয়েছে, গৃহবন্দি থাকা ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই।
গুজরাত, মহারাষ্ট্র, পুদুচেরি, ওড়িশা-র মতো বেশ কিছু রাজ্যের একাধিক শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মাঝ রাত এবং কাকভোর থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এক্সপ্রেস ট্রেন ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চাকাও। পশ্চিমবঙ্গ এখনও লকডাউনের কথা না বললেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পাব, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক তা মানছেন সকলেই।