'যাঁরা আগুন জ্বালাতে বলেন তাঁরা লিডার নন', সরকার বিরোধী আন্দোলনকে কটাক্ষ সেনাপ্রধানের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। কোথাও কোথাও এই বিক্ষোভ হিংসার রূপ নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে জনতা। আগুন জ্বলেছে। সংঘর্ষের মধ্যে পরে প্রাণহানিও হয়েছে। সরকার বিরোধিতায় এই হিংসার ঘটনাকে একহাত নিল
শেষ আপডেট: 26 December 2019 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। কোথাও কোথাও এই বিক্ষোভ হিংসার রূপ নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে জনতা। আগুন জ্বলেছে। সংঘর্ষের মধ্যে পরে প্রাণহানিও হয়েছে। সরকার বিরোধিতায় এই হিংসার ঘটনাকে একহাত নিলেন দেশের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। বললেন, 'যাঁরা আগুন জ্বালানোর ও হিংসার ঘটনা ঘটানোর নির্দেশ দেন, তাঁরা কখনওই লিডার নন।'
বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে এই বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খোলেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। তিনি বলেন, "লিডারের কাজ হচ্ছে নেতৃত্ব দেওয়া। আর নেতৃত্ব দেওয়া এত সহজ কাজ নয়। কারণ যখনই আপনি কোনও দিকে যাবেন, সবাই আপনাকে অনুসরণ করবে। দেখে মনে হয় নেতৃত্ব দেওয়া খুব সহজ কাজ। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও অত সহজ নয়।" তারপরেই একজন লিডারের কী করা উচিত, তা নিয়ে মন্তব্য করেন রাওয়াত। তিনি বলেন, "তাঁরাই নেতা, যাঁরা মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যান। কিন্তু যাঁরা মানুষকে ভুল বোঝান, তাঁরা কখনওই লিডার হওয়ার যোগ্য নন। আমরা দেখছি হাজার হাজার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভুল পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হিংসার দিকে যাচ্ছে তারা। আগুন জ্বলছে। সংঘর্ষ হচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন তাঁরা লিডার নন।"

আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার কথা বিপিন রাওয়াতের। এদিন দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে দিল্লিজুড়ে হয়ে চলা এই বিক্ষোভকে নিয়ে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। রাওয়াতের এই মন্তব্যের পরে পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি খুব উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিভিন্ন সরকার বিরোধী দল। ছাত্র-ছাত্রীরা অরাজনৈতিক আন্দোলন করলেও কোথাও কোথাও রাজনৈতিক রং তাতে লেগে গিয়েছে। এটা কখনওই অভিপ্রেত নয়। সেটাই সবার সামনে এদিন তুলে ধরার চেষ্টা করলেন সেনাপ্রধান। বোঝাতে চাইলেন, প্রতিবাদের ভাষা কখনওই হিংসা নয়। শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেও বিক্ষোভ দেখানো সম্ভব।
অবশ্য সেনাপ্রধানের এই মন্তব্যের পর বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সেনাপ্রধান দেশের সুরক্ষা নিয়ে কথা বলবেন। অথচ তিনি রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন। এটা কখনওই উচিত নয়। বিপিন রাওয়াতের এই মন্তব্যেই বোঝা যাচ্ছে সেনাপ্রধান কার হয়ে কথা বলছেন।