
শেষ আপডেট: 19 December 2019 16:05
এদিন বিক্ষোভ দেখিয়েছে প্রধানত ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন। বিক্ষোভকারীরা একটি বাজারের বাইরে জড়ো হলে তাদের উপর লাঠি চালায় পুলিশ। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “বিক্ষোভকারীরা আইন ভাঙছিলেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তাই আমাদের কর্মীরা লাঠি চালাতে বাধ্য হয়েছে। যা করা হয়েছে শান্তি-শৃঙ্খলার কথা ভেবেই।”
শুধুমাত্র ম্যাঙ্গালোর নয়, হুব্বালি, কালাবুরাগি, হাসসান, মাইসোর, বল্লারি ও বেঙ্গালুরুতে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দমন করেছে পুলিশ। কর্নাটকের মানুষের অভিযোগ, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বেঙ্গালুরুতেই বিক্ষোভ দেখানোয় ১০০-র উপর বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিন সকালে দিল্লিতে ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহকে আটক করে পুলিশ। রামচন্দ্র গুহের নিগ্রহ ও আটক করার ঘটনাকে সমবেত ভাবে ধিক্কার জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন সমাজের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। সেই বিবৃতিতে সই করেছেন শঙ্খ ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, মনোজ মিত্র, জয় গোস্বামী প্রমুখ।
ওই বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, “আজ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সকাল ১১টা নাগাদ বেঙ্গালুরু শহরে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রামচন্দ্র গুহ এনআরসি এবং সিএএ-র প্রতিবাদ করছিলেন। সে সময়ে পুলিশ তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং আটক করে। অধ্যাপক রামচন্দ্র গুহ একজন বরেণ্য ইতিহাসবিদ, সমাজতাত্ত্বিক, প্রখ্যাত লেখক ও প্রবীণ নাগরিক। তাঁর নিগ্রহের এবং আটকের এই ঘটনাকে আমরা সমবেত ভাবে ধিক্কার জানাচ্ছি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে এক ধর্মান্ধ ফ্যাসিস্ত শক্তির উত্থান ঘটেছে। আমরা তাদের জনবিরোধী পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন। দেশে আগুন জ্বালিয়ে তারা সাধারণ মানুষ, ছাত্র, লেখক, সংস্কৃতিকর্মীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। সমস্ত মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, রামচন্দ্র গুহ ও অন্যান্যদের উপর এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হোন।”