দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসক কাফিল খানকে দ্রুত মুক্ত করার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত এদিন স্পষ্ট জানিয়েছে, কাফিল খানের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা করা বেআইনি হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত এও বলেছে, ওই চিকিৎসকের বক্তৃতায় কোনও ঘৃণা বা হিংসা ছিল না। তিনি কেবল নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। কিছু ছাত্রছাত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
সিএএ বিরোধী মন্তব্য করায় এবার জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল ডাক্তার কাফিল খানের উপর। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএএ-র বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে গত ২৯ জানুয়ারি মুম্বই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কাফিল খানকে। জামিন মঞ্জুর হলেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলবন্দি রাখা যায়।
মুম্বইতে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ-আন্দোলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন কাফিল। মুম্বই পুলিশের সহযোগিতায় বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। তারপর থেকে মথুরা জেলেই বন্দি রয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই কাফিলের মুক্তির দাবিতে আওয়াজ উঠেছিল। অনেকের বক্তব্য ছিল , বিরোধী সস্বর দমিয়ে রাখতেই উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার এই আইন প্রয়োগ করেছে কাফিলের উপর। যদিও এদিন আদালত জানিয়ে দিয়েছে , প্রাথমিক ভাবে কাফিল খানের বক্তৃতা শুনে কখনই মনে হয়নি তাঁর বক্তৃতায় ঘৃণা বা হিংসাত্মক কিছু রয়েছে। তা ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি লঙ্ঘন করার মতোও তিনিই কিছু বলেননি।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর (এনআরসি) বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বলেছিল আলিগড় মুসলিম বিদ্যালয়ে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন আলিগড়ের পড়ুয়ারা। বিক্ষোভকারী পড়ুয়া ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলেজ চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জমায়েত হওয়া কয়েকশো প্রতিবাদী ছাত্রের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। চালানো হয় জলকামান। আটক করা হয় কয়েকশ বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে। অভিযোগ এই বিক্ষোভের সময় সেখানে হাজির ছিলেন ডাক্তার কাফিল খান। ধর্মীয় উস্কানিমূলক এমন কিছু কথা নাকি তিনি বলেন, যাতে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়। ১৩ ডিসেম্বর এফআইআর করা হয়েছিল ডাক্তারের বিরুদ্ধে।