দ্য ওয়াল ব্যুরো: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলা, ভাঙচুর নিয়ে দিল্লি পুলিশ সবেমাত্র সাংবাদিক বৈঠক শেষ করেছে। সেখানে দাবি জানানো হয়েছে, ৫ তারিখ বিকেলে পেরিয়ার হোস্টেলে হামলার ঘটনায় ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ছবিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। মিনিট ১৫-র মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দিলেন ঐশী। এসএফআই নেত্রী বলে দিলেন, “আমি কোনও অন্যায় করিনি। কেন দিল্লি পুলিশ আমার বিরুদ্ধে পক্ষপাত করছে?”
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রবিবার সন্ধ্যায় ধুন্ধুমার কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে বিশেষ তদন্তকারী দল তথা এসআইটি গঠন করা হয়েছে। এদিন সিটের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে যুগ্ম কমিশনার জয় তিরকে বলেন, “৫ জানুয়ারি বিকেলে জেএনইউ-র পেরিয়ার হস্টেলে হামলার চালানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ।” তিনি জানান, তার পর সন্ধ্যায় সবরমতী হস্টেলে হামলা চলে।
দিল্লি পুলিশের এই দাবির পর ফের উত্তপ্ত হয়েছে জেএনইউ ক্যাম্পাস। ছাত্ররা সাধারণ সভা ডেকেছেন। মনে করা হচ্ছে আজকে রাতেই আবার দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে ধর্নায় বসতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা।
এদিন দীর্ঘ সাংবাদিক বৈঠক করে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে কী উঠে এসেছে তা জানায় দিল্লি পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে ছাত্ররা। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক দফা এফআইআর করে দিল্লি পুলিশে। এরপর আবার ৪ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেদিন আবার এফআইআর হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র বহিরাগতরাই নয়, ভিতরের ছাত্রছাত্রীরা না থাকলে ওই ভাবে হামলা চালানো যায় না।
দিল্লি পুলিশের শীর্ষ সারির আধিকারিক বলেন, "পরপর চারদিন জেএনইউয়ে যাওয়ার পর আমিই রাস্তা গুলিয়ে ফেলব। কারণ ক্যাম্পাসের ভিতরের রাস্তা গোলকধাঁধার মতো। দুম করে কেউ বাইরে থেকে গিয়ে হোস্টেলে হামলা চালিয়ে দিল সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ভিতরের ছাত্রছাত্রীদের যোগ না থাকলে তা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।"
সুচেতা তালুকদার, ঐশী ঘোষ, প্রিয়া রঞ্জন, যোগেন্দ্র ভরদ্বাজ, বিকাশ পটেলের মতো দু'পক্ষের একাধিক ছাত্রছাত্রীর নাম উঠে এসেছে ওই হিংসার নেপথ্যে। ঐশীরা যেমন বাম ছাত্র সংগঠনের পক্ষে তেমন সংস্কৃতে এমফিল পড়ুয়া বিকাশ ভরদ্বাজ এবিভিপির নেতা। বিকাশের নেতৃত্বেই ওই হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশ আরও জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারি বিকেলে যখন সবরমতী হোস্টেলে হামলা চালানো হয়, তখন শান্তি বৈঠক চলছিল। এখনও পর্যন্ত যাঁদের নাম উঠে এসেছে, সেই ছাত্র নেতানেত্রীদের নোটিস পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।