দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ভাইরাসের জেরে বিরাট ধস নেমেছে স্টক মার্কেটে। গত চার বছরে কখনও এতটা পড়েনি বাজার। বিশ্বজুড়ে ৬.৮৪ লক্ষ কোটি টাকা খুইয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১৫ সালের অগস্ট মাসের পর ফের এত বড় ধস নামল স্টক মার্কেটে।
সোমবার স্টক মার্কেট সূচক নেমেছে ৫ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের দামও কমেছে। সেনসেক্স পড়েছে ২৪৬৭ পয়েন্ট। দিনের শেষ তা দাঁড়িয়ে আছে ৩৫,৬৩৫ এর ঘরে। অন্যদিকে নিফটি পড়েছে ৬৯৫ পয়েন্ট। তা এখন দাঁড়িয়ে আছে ১০,৩০০ এর ঘরে। সেনসেক্সের পতনের হার ৫.১ শতাংশ। অন্যদিকে নিফটির পতনের হার ৪.৯ শতাংশ।
নিফটিতে নথিভুক্ত ৫০ টি সংস্থার মধ্যে ৪৬ টির শেয়ারেরই দাম কমেছে। শতাংশের বিচারে যে সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে, তার মধ্যে আছে ওএনজিসি, বেদান্ত, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জি এন্টারটেনমেন্ট, ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক এবং টাটা স্টিল। তাদের শেয়ারের দাম ৫.৯৬ থেকে ১০.৬২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে সেনসেক্সে নথিভুক্ত শেয়ারগুলির মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ও ইনফোসিসের শেয়ারের দর কমেছে সবচেয়ে বেশি।
এই মুহূর্তে সৌদি আরবের তেলের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩১.৫ শতাংশ হারে ১৪.২৫ ডলার কমেছে। এই মুহূর্তে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ৩১.০২ ডলার। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এত বেশি পরিমাণে তেলের দাম কখনও কমেনি।
এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা বলছেন, করোনাভাইরাস ক্রমশ প্যানডেমিক অর্থাৎ অতি মহামারীর রূপ নিচ্ছে। এর ফলে শেয়ার সূচকের আরও পতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গত কয়েকদিনে পুরো এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে শেয়ারের দর নামছে হু হু করে। সেখানে শেয়ার সূচক নিক্কেইয়ের পতন হয়েছে ৪.৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়াতেও শেয়ার সূচক নেমেছে পাঁচ শতাংশ। আমেরিকায় ওয়াল স্ট্রিটে ই-মিনি সূচক নেমেচ্ছে ৪.৬ শতাংশ। ইউরোপে ইউরোস্টকস ফিফটি ও এফটিএসই সূচক নেমেছে ৪.৪ ও ৪.৮ শতাংশ হারে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা তাকিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির দিকে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছে। কিন্তু তারপরেও কী ভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব তা বুঝে উঠতে পারছে না তারা।