দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাটকের পর নাটক চলছে রাজস্থানের রাজনীতিতে। যা নিয়ে আন্দোলিত নয়াদিল্লিও। এবার কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ তথা এসওজি। একই সঙ্গে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় জৈন ও বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক ভানওয়ারলাল শর্মার বিরুদ্ধে।
এর মধ্যে সঞ্জয় জৈনকে গ্রেফতারও করেছে এসওজি। যদিও বিজেপি তাঁদের সঙ্গে সঞ্জয় জৈনের যোগের কথা অস্বীকার করেছে।
এদিন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন, রাজস্থানের অশোক গেহলট সরকার ফেলতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র চলছে। একটি ফোনের কথোপকথনের ট্রান্সক্রিপ্ট পড়ে শোনান রণদীপ। তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখওয়াতের নেতৃত্বে রাজস্থানের সরকার ফেলার জন্য ঘোড়া কেনাবেচার ষড়যন্ত্র হয়েছে। সকালে তিনি দাবি করেন, এর বিরুদ্ধে তদন্ত করুক এসওজি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গ্রেফতারির দাবিও জানান তিনি।
যে কয়েকজন বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক হরিয়ানার বিলাসবহুল হোটেলে রয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আগেই সরব হয়েছিলেন রণদীপরা। এদিন তিনি বলেন, গুরগাঁওয়ে যে বিধায়করা বিজেপির সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রয়েছেন তাঁরাও এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার। রণদীপ দাবি করেন, অডিও ক্লিপে স্পষ্ট, ভানোয়ারলাল শর্মা এবং বিশ্বেন্দ্র সিং বাকি বিধায়কদের সঙ্গে ‘ডিল’ করানোর ভূমিকা নিচ্ছেন। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জা। টাকা দিয়ে জনপ্রতিনিধি কিনে সরকার ফেলে দেওয়াটাকে বিজেপি সংস্কৃতিতে পরিণত করেছে।
গত পরশু দিন, বুধবার, শচীন পাইলটকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ও তাঁর শিবিরের দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে দেয় কংগ্রেস। কিন্তু শচীনকে দলে রাখতে মরিয়া সাবেক দল। তাঁর সঙ্গে বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমও ফোনে কথা বলেছেন। তবে বুধবারই শচীন মন্তব্য করেন, তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন না। গান্ধী পরিবারের সামনে তাঁকে ছোট করতেই এসব রটানো হচ্ছে। তারপর কংগ্রেসের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল, শচীন বিজেপিতে যাচ্ছেন না ভাল কথা। কিন্তু হরিয়ানার বিজেপি সরকারের আতিথেয়তা নেওয়া তিনি বন্ধ করুন। বিজেপির সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করুন। আর এদিন সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘোরা কেনাবেচার ও সরকার ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। এবং এফআইআরও দায়ের করল রাজস্থানের এসওজি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজস্থানের এই চাপানউতোর এখন চলবে। গত কয়েকদিন ধরেই টানটান নাটক চলছে। আগামী কয়েকদিনে ক্রমশ তা ক্লাইম্যাক্সের দিকে এগিয়ে যাবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের অনেকের। যদিও বিজেপি এখনও সে ভাবে খোলাখুলি ময়দানে নামেনি। অনেকের মতে, সরকার গড়ার সংখ্যা এই মুহূর্তে গেরুয়া শিবিরের হাতে নেই। বরং অশোক গেহলটের সঙ্গে নির্দল ও ছোট দলগুলির বিধায়কদের সমর্থন রয়েছে। ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় এখন যা সমীকরণ তাতে ১২-১৫ জন বিধায়কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।