দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার প্রকাশিত অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তালিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। এ দিন ১০ জনপথে কংগ্রেসের একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অধীরবাবু বলেন, “যে ভাবে এনআরসি তালিকা তৈরি হয়েছে, তাতে বহু সঠিক নাম বাদ গিয়েছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যর্থ হয়েছেন সঠিক তালিকা তৈরি করতে।”
১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। এ দিন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “আমার বাবাও বাংলাদেশের লোক ছিলেন। সেই হিসেবে তো আমিও বহিরাগত। আমাকেও বার করে দিক!” দিল্লির বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি দু’দিন আগেই বলেছিলেন, এ বার দিল্লিতেও এনআরসি করা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনেও গেরুয়া শিবিরের তীব্র সমালোচনা করেন বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ। তিনি বলেন, “ভারত একটা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এই তালিকা হওয়া উচিত ধর্মনিরপেক্ষতার শর্ত মেনেই।” এই তালিকায় লোকসভায় আনারও দাবি তোলেন অধীর। তাঁর কথায়, “কোনও সত্যিকারের ভারতীয়র যেন নাম বাদ না যায়। তাঁদের সবাইকে সুরক্ষা দিতে হবে।”
অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও এই তালিকার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, সত্যিকারের যা অনুপ্রবেশকারী তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে, অথচ অসংখ্য ভারতীয়দের নাম বাদ। এ দিন অসমের বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এনআরসি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, “বহু সত্যিকারের ভারতীয়দের নাম বাদ চলে গিয়েছে। এ রকম তালিকা হবে ভাবিনি। এতে উদ্দেশ্য ধাক্কা খাবে। ”
এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অল অসম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (আসু)। তাদের দাবি এই তালিকা ত্রুটিপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে নেই ছাত্র সংগঠন। অসমের ভূমিপুত্ররাই এনআরসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, এই দাবি গোড়া থেকে তুলে এসেছে আসু। এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লুরিনজ্যোতি গগৈ বলেন, “এই তালিকা অসম্পূর্ণ। ভুলে ভরা। যে ভাবে সত্যিকারের নাগরিকদের নাম বাদ গিয়েছে, তা অপ্রত্যাশিত।”