দুর্ঘটনা থেকে বাঁচবে প্রাণ, পেনশনের টাকায় নিজেদের হাতেই খানাখন্দে ভরা রাস্তা সারাচ্ছেন বৃদ্ধ দম্পতি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তা তো নয় যেন চষা ক্ষেত। জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে পিচের আস্তরণ। বড় বড় গর্তগুলো মরণফাঁদ তৈরি করেছে। বৃষ্টি হলে জলে-কাদায় ভরে রাস্তা। বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। প্রাণ দিতে হয় মানুষকে। এই বিপদ থেকে
শেষ আপডেট: 11 July 2021 09:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তা তো নয় যেন চষা ক্ষেত। জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে পিচের আস্তরণ। বড় বড় গর্তগুলো মরণফাঁদ তৈরি করেছে। বৃষ্টি হলে জলে-কাদায় ভরে রাস্তা। বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। প্রাণ দিতে হয় মানুষকে। এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য পুরসভা, প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুফল মেলেনি। তাই বিপদতারণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তেলঙ্গানার বাসিন্দা বৃদ্ধ দম্পতি। দিন নেই, রাত নেই, খানাখন্দে ভরা রাস্তা দেখলেই নিজেদের হাতেই মেরামতিতে নেমে পড়ছেন। কোথাও গর্ত বোজাচ্ছেন, কোথাও পিচের ছাল উঠে যাওয়া রাস্তায় ইট বিছিয়ে দুর্ঘটনা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
প্রাণ বাঁচানোই সংকল্প তাঁদের। তাই খরচের কথা ভাবেননি। জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়েই নিঃস্বার্থভাবে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে নেমে পড়েছেন ৭৩ বছরের গঙ্গাধর তিলক কাটনাম ও তাঁর স্ত্রী ৬৪ বছরের ভেঙ্কটেশ্বরি কাটনাম। এখন তাঁদের নামই হয়েছে গেছে ‘রোড ডক্টর’। গত ১১ বছর ধরে রাস্তার চিকিৎসাই করে চলেছেন এই প্রবীণ দম্পতি।

ভারতীয় রেলের উচ্চপদে চাকরি করতেন গঙ্গাধর তিলক। অবসরের পরে হায়দরাবাদে ফিরে এসে একটি বহুজাতিক সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজে যোগ দেন। তিলক জানিয়েছেন, গত বছর চাকরি থেকে অবসর নিয়ে রাস্তা মেরামতির কাজে নেমে পড়েন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। তাঁরা যে এলাকায় থাকেন সেখানকার রাস্তার অবস্থা বেহালই শুধু নয় রীতিমতো বিপজ্জনকও। আশপাশের এলাকারও একই দশা। গোটা রাস্তা জুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই ভ্যান বা ছোট গাড়ি উল্টে যায়। গর্তে চাকা আটকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বড় ট্রাক। রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণ দিতে হয় পথচারীদের। বর্ষার সময় রাস্তা আরও বিপদসঙ্কুল হয়ে ওঠে। গর্তগুলোতে জল জমে ছোট ছোট ডোবার মতো তৈরি হয়ে যায়। গাড়ি চলাচল করতে পারে না। অনেকসময়েই গর্ত বুঝতে না পেরে উল্টে যায় বাইক। এমন অনেক বাইকআরোহীই বিপদে পড়েছেন গত কয়েক বছরে।

তিলক বলছেন, পুরসভার কাছে লাগাতার অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। তাই স্ত্রীকে নিয়ে নিজেই রাস্তা সারাতে নেমে পড়েছেন। এখনও অবধি ২০৩০ টিরও বেশি গর্ত বুজিয়েছেন তাঁরা। ভাঙা রাস্তা মেরামত করেছেন। গত ১১ বছরে এই কাজে তাঁদের খরচ হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। সবটাই নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ও পেনশনের টাকায় করেছেন তাঁরা। কখনও কোনও অনুদানের অপেক্ষায় বসে থাকেননি।
লাভ ক্ষতির হিসেব কষেন না গঙ্গাধর তিলক ও তাঁর স্ত্রী। এখন নিজেদের ছোট একটি সংগঠন চালান। নিজেদের ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও যেখানেই খানাখন্দে ভরা রাস্তা দেখেন সেখানেই মেরামতির কাজ শুরু করে দেন এই প্রবীণ দম্পতি। দুর্ঘটনা থেকে পথচারীদের প্রাণ বাঁচানোর শপথ নিয়েছেন তাঁরা।