দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথা রাখলেন হরিয়ানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ। প্রথম ভলান্টিয়ার হিসেবে কোভ্যাক্সিনের টিকা নিলেন তিনি। হরিয়ানার আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে এই টিকা নিলেন তিনি। এদিকে হরিয়ানাতে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনের টিকার ট্রায়াল শুরু হল এদিন।
বৃহস্পতিবার এই টিকা নেওয়ার কথা তিনিই জানিয়েছিলেন। টুইট করে ৬৭ বছরের এই মন্ত্রী বলেন, “আগামীকাল ১১টার সময় আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের সিভিল হাসপাতালে ভারত বায়োটেকের করোনাভাইরাসের টিকার ট্রায়াল ডোজ নেব আমি। পিজিআই রোহতক ও স্বাস্থ্য দফতরের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হবে এই টিকার ট্রায়াল।”
এই টিকার ট্রায়ালের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
https://twitter.com/ANI/status/1329684086332346369?s=19
দেশে ভারত বায়োটেকের টিকার তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে। ২২টি জায়গায় টিকার ট্রায়াল চলছে। এই পর্বে টিকা দেওয়া হবে ২৬ হাজার জনকে। কোভ্যাক্সিন টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু হতেই প্রথম টিকার ডোজ নিয়েছিলেন আলিগড় মুসলিম বিদ্যালয়ের উপাচার্য তারিক মনসুর। আইসিএমআর জানিয়েছে, কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়ালে অংশ নিতে কমিটি তৈরি করা হয়েছে। টিকার পরীক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে আবেদন করা হয়েছে চিকিৎসক, আইনজীবী, সমাজকর্মী থেকে সমাজের সব পেশার মানুষজনকেই।
গত ২ অক্টোবর টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালের জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি চেয়েছিল ভারত বায়োটেক। নানা কারণে সেই আবেদন মঞ্জুর হতে দেরি হয়। কীভাবে টিকার ট্রায়াল হবে এবং কতজনকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে তার নিয়ম বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা জানিয়েছে, তৃতীয় পর্বে ২৮ হাজার ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই, পাটনা, লখনৌ সহ দেশের ১০ রাজ্যে টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট দেখেই উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যেই টিকার পর্যাপ্ত ডোজ চলে আসবে।
দেশে তৈরি করোনা টিকার ট্রায়ালে এখনও এগিয়ে রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেক। যার মধ্যে ভারত বায়োটেক ঘোষণা করেছে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই টিকার ডোজ বাজারে আনা হতে পারে। সেই হিসেবে টিকার বিতরণের জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। দেশে ৩০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য গাইডলাইন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। যার মধ্যে চারটি ক্যাটেগরিতে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম টিকা পাবেন ডাক্তার, নার্স তথা স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তারি পড়ুয়ারা। এর পরে পুলিশ, প্রশাসনিক কর্তা ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের টিকা দেওয়া হবে। পরের দুই ক্যাটেগরিতে থাকবেন প্রবীণ ও কোমর্বিডিটির রোগীরা।