পুজো দিতে গিয়েই পাকড়াও বিকাশ, ডালি বিক্রেতার ফোন পুলিশকে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বৃহস্পতিবার থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের কানপুরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। তার পিছনে তখন বিশাল পুলিশবাহিনী। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও হিমাচল প্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশে চলছিল তল্লাশি। একে একে খতম হচ্
শেষ আপডেট: 9 July 2020 06:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বৃহস্পতিবার থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের কানপুরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। তার পিছনে তখন বিশাল পুলিশবাহিনী। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও হিমাচল প্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশে চলছিল তল্লাশি। একে একে খতম হচ্ছিল বিকাশের সঙ্গীরা। এই অবস্থায় পুজো দিতে যাওয়া কাল হল ওই গ্যাংস্টারের। পুজো দিতে গিয়েই পাকড়াও হল বিকাশ। যে দোকান থেকে পুজোর ডালি কিনেছিল বিকাশ, সেই দোকানদারের ফোনেই তৎপর হয় পুলিশ।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৮টা নাগাদ মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে মহাকাল মন্দিরে পুজো দিতে যায় বিকাশ। মন্দিরে লোক খুব বেশি ছিল না। একটা দোকান থেকে পুজোর ডালি কেনে সে। সেই দোকানকারই চিনতে পারেন এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে। তিনিই খবর দেন পুলিশে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সঙ্গে সঙ্গে পুরো মন্দির ঘিরে ফেলে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের বিশাল বাহিনী। পুজো দিয়ে বেরনোর সময় মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষীরা বিকাশকে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে সে নকল আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি বিকাশ। চারদিকে পুলিশ দেখে সহজেই আত্মসমর্পন করে সে।
মন্দিরের বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, সাদা কালো স্ট্রাইপড টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরা বিকাশকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। মন্দিরের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হয় তাকে। তখনই বিকাশকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমি কানপুরের বিকাশ দুবে।” তার জবাবে পুলিশকে আরও কয়েকটা চড়-থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।
https://twitter.com/ANI/status/1281089710681554945?s=19
কানপুর ও তার আশেপাশে খুন, অপহরণ ও তোলাবাজির প্রায় ৬০টা মামলা রয়েছে বিকাশের নামে। কুখ্যাত এই দুষ্কৃতীকে ধরতে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিকাশের গ্রামের বাড়িতে হানা দেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ৫০ কর্মী। এই অপারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন ডেপুটি পুলিশ সুপার দেবেন্দ্র কুমার মিশ্র। কিন্তু আগে থেকেই এই পুলিশকর্মীদের আসার খবর পেয়ে গিয়েছিল বিকাশ। তাই পুলিশ আসার আগেই তৈরি ছিল তার দল। পুলিশ এলাকায় পৌঁছতেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। এই গুলিকে আট পুলিশকর্মী শহিদ হন। গুরুতর আহত হন আরও সাত কর্মী। মারা যান ডিএসপি দেবেন্দ্রও।
এই ঘটনার পরেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বিকাশ ও তার সঙ্গীরা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তরফে এসটিএফের একটি দল তৈরি করে তল্লাশি শুরু হয়। এই দলে ৪০টি থানার পুলিশকর্মীদের রাখা হয়। বিকাশের মাথার দাম রাখা হয় ৫ লক্ষ টাকা। বিকাশের একের পর এক সঙ্গীকে এনকাউন্টারে মারা শুরু করে পুলিশ। অবশেষে পুলিশে জালে পাকড়াও হল বিকাশ নিজেই।