দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সন্ধেবেলা জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেশজুড়ে ২১ দিন লকডাউনের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তারপরেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও জানিয়েছেন, তাঁর রাজ্যে এই লকডাউন কেউ না মানলে তাকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হবে। শিগগির এই নির্দেশিকা পুলিশকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার কেসিআর তেলেঙ্গানার জনগণের কাছে আবেদন করেন, এই লকডাউনের সময় সবাই যাতে ঘরে থাকেন। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার আর্জি জানান তিনি। তারপরেই তিনি বলেন, “যদি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে সেনাও মোতায়েন করা হবে।”
এই পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও তাঁর আবেদন, সবাই যাতে সাধারণ মানুষকে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বোঝান। তিনি বলেন, “সব নেতারা কোথায়? আমি রাস্তায় কোনও নেতাকে দেখা পাচ্ছি না। আমি খালি পুলিশ, পুরসভা ও অন্যান্য দফতরের কর্মীদের দেখছি। মানুষকে সাহায্য করার জন্য নেতাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
কোনও জরুরি প্রয়োজন হলে ১০০ নম্বরে ডায়াল করার পরামর্শ দিয়েছেন চন্দ্রশেখর রাও। তিনি বলেছেন, সবকিছু তৈরি আছে। ১০০ নম্বরে ফোন এলেই সাহায্য পৌঁছে যাবে।
এই সময় কালোবাজারি থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কাউকে যদি দেখা যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বেশি দামে বিক্রি করছে, তাহলে তার লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত হবে ও শাস্তি দেওয়া হবে।
তেলেঙ্গানায় এখনও পর্যন্ত ৩৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই জানিয়েছে কেসিআর। তিনি বলেন, “যাঁরা বিদেশ থেকে এসেছেন তাঁদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। কেউ এই নিয়ম ভাঙলে তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হবে ও শাস্তি দেওয়া হবে।”
গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যা খুব একটা বেশি দেখা না যাওয়ায় কৃষি ও তার সঙ্গে যুক্ত কাজকর্ম চলবে বলেই জানিয়েছেন চন্দ্রশেখর রাও। চাষিদের কাছ থেকে সরকার সরয়াসরি খাদ্যশস্য কিনবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিশ্রুতি মতো রেশন কার্ড যাঁদের আছে তাঁদের চাল ও ১৫০০ করে টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।