দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ইস্যুতে যখন সংসদ থেকে কলকাতা পর্যন্ত প্রতিবাদের আগুন ঝরাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, সেই সময়ই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল বাংলার শাসক দলকে। এনআরসি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদকে ‘খামোকা হল্লা’ বলে তোপ দেগে অসম রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বসেছিলেন দীপেন পাঠক। এ বার সেই সভাপতিহীন অসমেই দলের পার্টি অফিস উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন বাংলার পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী তথা দলের তরফে অসমের পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটার বিমানে গুয়াহাটি যাবেন ফিরহাদ।
তৃণমূলের তরফে জানা গিয়েছে, গুয়াহাটিতে দলীয় দফতর উদ্বোধনের পাশাপাশি একটি সাংগঠনিক সভাও অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় গুয়াহাটি, শিলচর সহ অসমের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসবেন বলেও জানান তৃণমূল নেতৃত্ব।
অসম রাজ্য সভাপতি পদ থেকে দীপেনবাবুর ইস্তফার পর শাসক দলের অনেকেই মনে করেছিলেন এর পিছনে আসল কলকাঠি নেড়েছেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়। কারণ মুকুলবাবু যখন তৃণমূলে ছিলেন তখন তিনিই দেখতেন উত্তর-পূর্বের সাংগঠনিক কাজকর্ম। ত্রিপুরায় সুদীপ রায় বর্মন থেকে অসমের দীপেন পাঠককে তিনিই এনেছিলেন তৃণমূলে। এখন মুকুলবাবু বিজেপি নেতা। ত্রিপুরাতেও কংগ্রেস থেকে যারা ঘাসফুলে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়ের হাত ধরে তারাও এখন বিজেপি-তে।
তবে তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, দলের অনেক নেতাই ফিরহাদের অসম সফর নিয়ে খানিকটা চিন্তিত। ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি অনেকেই বলছেন, “আবার না বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়।” প্রসঙ্গত, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ এবং বিধায়কদের একটি টিম পাঠিয়েছিলেন অসমে। কিন্তু শিলচর বিমানবন্দরে নামতেই, আটকে দেওয়া হয় ফিরহাদ হাকিম, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুখেন্দুশেখর রায়, মহুয়া মৈত্রদের। বিমানবন্দরের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। কিন্তু টার্মিনালের বাইরে আর যাওয়া হয়নি। কোনওরকমে একটু রুটি তরকারি জোগাড় করে পেটে দিয়ে, সারা রাত বিমানবন্দরের লাউঞ্জে কাটিয়ে পরের দিন সকালের বিমান ধরেই ফিরে আসতে হয় কলকাতায়। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা তৃণমূলের। যদিও পর্যবেক্ষকদের মতে, এ বার হয়তো অসমের পুলিশ তেমন কিছু করবে না। কারণ এ বার ফিরহাদ হাকিম যাবেন একা। তাছাড়া উদ্দেশ্যও আলাদা। কিন্তু তৃণমূল বলছে ‘না আঁচালে বিশ্বাস নেই।’