দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখ বাঁধা কালো কাপড় দিয়ে। মুখে আঙুল। সংসদে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা।
কেন?
তৃণমূলের বক্তব্য, দিল্লিতে যে হিংসা হয়েছে, সেই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ছিল অনেকটা এরকমই। চোখ বন্ধ করে, হাত গুটিয়ে বসেছিল সরকার। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, “দিল্লিতে হত্যালীলা চলল আর সরকার চুপ করে বসে রইল।” তাঁর অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই নিষ্ক্রিয় ছিল দিল্লি পুলিশ। প্রকাশ্যে গুলি চালাতে দেখেও ব্যবস্থা নেয়নি।”
এদিন সংসদ ভবনে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে দিল্লির হিংসার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসও। সাবেক দলের অভিযোগের তির যেমন বিজেপির দিকে, তেমনই তাদের নিশানা থেকে বাদ নেই দিল্লিতে সদ্য ভোটে জেতা আপও। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, হিংসা থামাতে রাজনৈতিক দলের যে ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল আপের, তা তারা নেয়নি। উল্টে ‘হাতে পুলিশ নেই’ বলে কাঁদুনি গেয়েছে। অনেকের মতে, যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেজরিওয়ালের ভাল সম্পর্ক তাই তৃণমূল তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। এ ব্যাপারে সুখেন্দুশেখরবাবু বলেন, “আমরা কোনও সরকারকেই ক্লিন চিট দিইনি। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের সবার বিরুদ্ধে আমাদের বিক্ষোভ।”
দলের সাংসদরা যখন সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তখন কলকাতার নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও ঝাঁঝ বাড়ান মমতা। বলেন, “দিল্লির হিংসা পূর্ব পরিকল্পিত গণহত্যা।” ৭০০-র বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত আক্রমণ শানালেও আপের বিরুদ্ধে একটি শব্দও শোনা যায়নি দিদির মুখে।
গত সপ্তাহে টানা তিনদিন ধরে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে তাণ্ডবলীলা চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মধ্যেই হিংসার আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে রাজধানীরই একটি প্রান্তে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশকর্মী ও গোয়েন্দা অফিসারও। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ২০০-র বেশি মানুষ।