শহিদ কর্নেল আশুতোষ শর্মাকে চোখের জলে শেষ বিদায় পরিবারের, স্যালুট জানালেন স্ত্রী-কন্যা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে শহিদ হয়েছেন কর্নেল আশুতোষ শর্মা। সোমবারই বিশেষ চপারে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় জয়পুরে। এরপর সেনার গাড়িতে শহিদ কর্নেলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় সেনা হাসপাতালে। সেখানেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান পরিবার।
হাজির ছিলেন
শেষ আপডেট: 5 May 2020 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে শহিদ হয়েছেন কর্নেল আশুতোষ শর্মা। সোমবারই বিশেষ চপারে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় জয়পুরে। এরপর সেনার গাড়িতে শহিদ কর্নেলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় সেনা হাসপাতালে। সেখানেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান পরিবার।
হাজির ছিলেন কর্নেলের স্ত্রী পল্লবী এবং মেয়ে। চোখের জলেই স্যালুট করে কর্নেলকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁরা। এছাড়াও ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহিদ কর্নেলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট এবং বিজেপি সাংসদ রাজ্যবর্ধন সিং রাঠৌর। জয়পুরেই কর্নেল আশুতোষ শর্মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে।
https://twitter.com/i/status/1257525700824834048
উত্তর কাশ্মীরে কুপওয়ারা জেলার হান্দওয়ারাতেই ঘাঁটি গেড়েছিল ৩-৪ জন জঙ্গি। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়েই এনকাউন্টার অভিযানে নামে নিরাপত্তাবাহিনী। সেনার সঙ্গে যৌথ অভিযানে যোগ দেয় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশও। এপ্রিলের ২৮ তারিখ গোপন সূত্রে নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে খবর আসে যে হান্দওয়ারার কাছে চাঙ্গিমুল্লাতে একটি বাড়িতে ঘাঁটি গেড়েছে কয়েকজন জঙ্গি। খবর পেয়েই অভিযানের ছক কষে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ১ মে রাত ৩টে নাগাদ প্রথম আঘাত হানা হয় জঙ্গিদের উপর। নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই পাল্টা জবাব দেয় জঙ্গিরাও। আরও কিছু সূত্রে হাতে আসায় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে ২ মে-ও যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। ৩ তারিখ সকাল পর্যন্ত চলে অভিযান।
অভিযান চলাকালীনই নিরাপত্তাবাহিনী বুঝতে পারে স্থানীয় নাগরিকদের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিল জঙ্গিরা। মহিলা ও শিশু-সহ মোট ১১ জনকে বন্দি বানিয়েছিল তারা। আর এনকাউন্টার চলাকালীন তাঁদেরকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। যদিও অভিযানের মাধ্যমে কাশ্মীর পুলিশের একটি দল সফলভাবে জঙ্গিদের কবলে থাকা ১১ জন সাধারণ নাগরিককেই উদ্ধার করে। তবে এই সময়েই এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে জঙ্গিরা। তাদের তরফ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ধেয়ে আসে সেনা এবং পুলিশের উপর।
এই ঘটনায় শহিদ হন পাঁচজন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শাকিল কাজি এবং রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ২১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্নেল আশুতোষ শর্মা, মেজর অনুজ সুদ, নায়েক রাজেশ কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ সিং—এই পাঁচজন শহিদ হন হান্দওয়ারা অভিযানে। সেনা সূত্রে খবর, হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে খতম ২ জঙ্গির মধ্যে একজন লস্করের কম্যান্ডার। এছাড়াও সেনা জানিয়েছে, এনকাউন্টারের এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে চাইনিজ টাইপ ৫৬ এবং রোমানিয়ার WASR সিরিজের রাইফেল। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্রশস্ত্র।