জিও-র সঙ্গে ফেসবুকের পার্টনারশিপ কেন, খোলসা করলেন জুকারবার্গ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের টেলিকম ব্যবসার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে ফেসবুক। মুকেশ আম্বানির সংস্থা জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেডে ৪৪ হাজার কোটি টাকার লগ্নি করেছেন ফেসবুকের মালিক মার্ক জুকারবার্গ। জিও প্ল্যাটফর্মের ৯.৯৯ শতাং
শেষ আপডেট: 22 April 2020 04:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের টেলিকম ব্যবসার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে ফেসবুক। মুকেশ আম্বানির সংস্থা জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেডে ৪৪ হাজার কোটি টাকার লগ্নি করেছেন ফেসবুকের মালিক মার্ক জুকারবার্গ। জিও প্ল্যাটফর্মের ৯.৯৯ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছে ফেসবুক। কিন্তু কেন হঠাৎ জিও-র সঙ্গে পার্টনারশিপ করল ফেসবুক। নিজেই তা জানালেন জুকারবার্গ।
নিজের ফেসবুক পেজে এই ব্যাপারে কিছু কথা লিখেছেন জুকারবার্গ। তিনি বলেন, “ফেসবুক জিও প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে জোট বাঁধছে। আমরা আর্থিক বিনিয়োগ করেছি। তারসঙ্গে আমরা একসঙ্গে সামনে কিছু বড় প্রোজেক্টে কাজ করতে চলেছি, যা ভারতে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেবে।”
জুকারবার্গ আরও বলেন, “ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যায় সবথেকে বড় দেশ ভারত। অনেক প্রতিভাবান ব্যবসায়ী রয়েছেন এই দেশে। ভারত বর্তমানে একটা ডিজিটাল বদলের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাতে জিও-র মতো সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনলাইনে ছোট ছোট ব্যবসার দিকে ঝুঁকবেন।”
লকডাউনের মধ্যে ভারতের বাণিজ্যকে সাহায্য করতেই জিও-র সঙ্গে জোট বেঁধেছে ফেসবুক বলেই জানিয়েছেন জুকারবার্গ। তিনি বলেন, “এই লকডাউনের মধ্যে ছোট ব্যবসায়ীরা বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। তাদের ব্যবসা এই মুহূর্তে বাড়ানোর জন্য তারা অনেক বড় কোম্পানির সাহায্য চাইছে। এই সময় এটুকুই সাহায্য আমরা করতে পারি। জিও-র সঙ্গে এই পার্টনারশিপের ফল অনেক ছোট কোম্পানিগুলির সামনে নতুন পথ খুলে দেবে।”
ফেসবুকের অধীনে হোয়াটসঅ্যাপ সম্প্রতি ভারতে ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস চালু করার অনুমতি পেয়েছে। সূত্রের খবর, গুগল পে কিংবা পেটিএমের মতো সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে হোয়াটসঅ্যাপ। আর তার জন্য শুরুতে একটা বড় লগ্নি করার প্রয়োজন ছিল। জিও-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেই কাজটাই করেছে ফেসবুক।
ফেসবুক চাইছে তাদের মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম অর্থাৎ হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে রিলায়েন্সের ই-কমার্স সংস্থা জিওমার্টকে যুক্ত করে একটা নতুন সার্ভিস তৈরি করতে।
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ কোটি। ভারতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এই অ্যাপ।
অন্যদিকে ভারতে নিজেদের প্রভাব ফেলেছে মুকেশ আম্বানির টেলিকম সংস্থা জিও। ২০১৬ সালে প্রথম কাজ শুরু করে জিও। তারপর থেকে ধীরে ধীরে অন্য টেলিকম সংস্থাগুলিকে পিছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে এই সংস্থা। তাই এই মুহূর্তে মুকেশ আম্বানির জিও-র সঙ্গেই জোট বেঁধেছে ফেসবুক।