দ্য ওয়াল ব্যুরো: তবলিঘি জামাত প্রধান মৌলানা সাদ কান্ধালভির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করল ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাদকে ইডি অফিসে জেরার জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, মার্চ মাসের মাঝামাঝি দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটা মসজিদে জমায়েত ঘিরে গোটা দেশের ৩০০০-এর বেশি জামাত সদস্য জড়ো হয়েছিল। তাদের নিজামুদ্দিন বস্তিতে একটা ছ’তলা বাড়িতে রাখা হয়েছিল। সেই জমায়েত ঘিরেই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে মৌলানা সাদের বিরুদ্ধে। এর আগে এই জমায়েত ঘিরে মৌলানা সাদ-সহ সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল দিল্লি পুলিশ। এই জমায়েত ভারতে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হয়ে ওঠে। জামাত সদস্যদের থেকেই গোটা দেশে কোভিড ১৯ সংক্রমণ অনেক বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
এই আর্থিক দুর্নীতির মামলা দায়ের হওয়ার পরে মৌলানা সাদের আইনজীবী জানিয়েছেন ১৪ দিনের সেলফ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মৌলানা। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ১৪ দিনের সেলফ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মৌলানা সাদ। তাঁর কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ হলেই তদন্তে যোগ দেবেন তিনি।”
এর আগে মৌলানা সাদ এবং আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলাও রুজু করে দিল্লি পুলিশ। মৌলানা সাদ ছাড়াও, দিল্লি পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে নাম রয়েছে জিশান, মুফতি শেহজাদ, এম সফি, ইউনুস, মহম্মদ সলমন, এবং মহম্মদ আশরাফের। তাঁদের বিরুদ্ধে মহামারি সংক্রান্ত আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানান দিল্লির পুলিশ কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মৌলানা সাদ। শোনা যাচ্ছে দিল্লি পুলিশের করা এফআইআরে নাম থাকার বাকিরাও ফেরার রয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের এফআইআরে বলা হয়েছে যে ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাঁরা জমায়েতে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অনেককে একসঙ্গে একটা ঘরে থাকার অনুমতিও দিয়েছিলেন। ২৪ মার্চ লকডাউনের নোটিস দেওয়া হলেও তা মানেননি এই সাতজন।
দিল্লি পুলিশের সন্দেহ, ৫৬ বছরের মৌলানা সাদও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেইজন্য তাঁকে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তাঁরা। তারমধ্যেই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দুটি ভিডিও বার্তা দেন মৌলানা। প্রথম বার্তায় তিনি জানান, “মসজিদ হল মৃত্যুর জন্য সবথেকে পবিত্র জায়গা। আমার অনুগামীদের কোনও ক্ষতি করোনাভাইরাস করতে পারবে না।”
দ্বিতীয় ভিডিও বার্তায় মৌলানা বলেন, “এখন বিশ্বজুড়ে যা হচ্ছে তা মানুষের পাপের ফল। আমাদের ঘরে থাকতে হবে। এই একটা উপায়েই আমরা আল্লাহর রাগকে থামাতে পারব। ডাক্তারদের পরামর্শ মানুন। প্রশাসন যা বলছে শুনুন। আমাদের সদস্যরা যেখানেই আছেন, প্রশাসনের নির্দেশ পালন করবেন। আমিও ডাক্তারের পরামর্শে দিল্লিতেই কোয়ারেন্টাইনে আছি। তাই আপনারাও কোয়ারেন্টাইনে থাকুন। এটা ইসলাম বা শরিয়তের বিরুদ্ধে নয়।”