দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর অগস্ট মাসে তাঁর মৃত্যু হলেও সংসদীয় রাজনীতি থেকে দশ বছর আগেই বিদায় নিয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। বস্তুত ২০০৫ সালেই বাজপেয়ী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, পরের ভোটে তিনি আর প্রার্থী হবেন না।
৯১ বছর বয়সে পৌঁছে এ বার সংসদীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন লালকৃষ্ণ আডবাণীও। আডবাণীর ‘সেকেন্ড হোম’ তথা গান্ধীনগর লোকসভায় এ বার প্রার্থী হচ্ছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ লোকসভা থেকে এক টানা গুজরাতের গান্ধীনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ ছিলেন আডবাণী। তার আগেও একবার গান্ধীনগর আসনে জিতেছিলেন। তার আগে সত্তরের দশক থেকে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদীয় রাজনীতি থেকে আডবাণীর সরে দাঁড়ানো, স্রেফ গান্ধীনগরের আয়নায় দেখলে সুবিচার হবে না। বরং এর বার্তা বৃহত্তর। তা হল, বিজেপি-তে প্রথম প্রজন্মের নেতারা এ বার পুরোপুরিই অস্তাচলে চলে গেলেন। আডবাণী সরে দাঁড়ানোর পর এখন মনে করা হচ্ছে, লোকসভা ভোটে প্রার্থী হবেন না মুরলী মনোহর জোশী এবং কলরাজ মিশ্রের মতো নেতারাও। তা ছাড়া বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজও এ বার আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশের বিদিশা লোকসভা থেকে আর প্রার্থী হবেন না তিনি।
বস্তুত নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিজেপি-তে প্রথম প্রজন্মের নেতাদের গুরুত্ব কমতে শুরু করেছিল। মার্গ দর্শক মণ্ডলী নাম দিয়ে আডবাণী, জোশী, যশবন্ত সিনহাদের পোশাকি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তাঁদের কার্যত কোনও গুরুত্ব ছিল না। এমনকি অনেকের মতে, গুজরাত দাঙ্গার পর যে নরেন্দ্র মোদীর জন্য বার বার ঢাল হয়েছিলেন আডবাণী, পরবর্তী কালে তাঁর সঙ্গেই আস্থার সম্পর্কে ঘাটতি তৈরি হয়। তা মাঝে মধ্যে আডবাণীর কিছু মন্তব্যেও প্রকট হয়ে পড়ে। অন্যদিকে যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরীর মতো নেতারা তো প্রকাশ্যেই বিদ্রোহে নেমে পড়েন। এমনকি এও বোঝাতে চান, বিজেপি পার্টিটা স্রেফ দু’জনের দখলে চলে গিয়েছে,-মোদী ও অমিত শাহ।
তবে মোদী অনুগামীদের মতে, কালের নিয়মেই সংসদীয় রাজনীতি থেকে বিদায় হল আডবাণীর। সঙ্ঘ পরিবারে নেতৃত্বের বদল এর থেকেও দ্রুত ও কম বয়সে হয়। তুলনায় ৯১ বছর বয়স পর্যন্ত সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন আডবাণী। এমনকি বাজপেয়ীও তাঁর অনেক আগেই অবসর নিয়েছেন। একই ভাবে জোশীরও ৮৫ বছর বয়স হয়েছে। কলরাজ মিশ্র-র বয়সও প্রায় আশি ছুঁই ছুঁই। এ বার তাঁরা সরে না দাঁড়ালে পরের প্রজন্মের নেতারা সুযোগ পাবেন কী ভাবে?