দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনেও কমেনি দিল্লির দূষণ। বরং এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বলছে রাজধানী শহরের বাতাসের গুণমান যথেষ্ট ‘অস্বাস্থ্যকর’। প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন চলছে ভারতে। আগামী ৩ মে পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন। করোনা মোকাবিলায় এর থেকে ভাল উপায় আর নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
এই অবস্থায় বন্ধ যান চলাচল। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ দেশের প্রায় সমস্ত কারখানাও। ফলে বেশিরভাগ শহরেই দূষণের মাত্রা একলাফে কমেছে কয়েকগুণ। এই তালিকায় ছিল দিল্লিও। কিন্তু হালফিলে দিল্লির বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এয়ার কোয়ালিডি ইনডেক্স ‘আনহেলদি’ পর্যায়ে রয়েছে।
গত ২৯ মার্চ দিল্লিতে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিল রাজধানীর ইউএস এমব্যাসি। সেদিনের পর থেকে সময় যত এগিয়েছে তত ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘মডারেট’ বা ‘মাঝারি’ হয়েছে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স। যানবাহনের চলাচল এবং কলকারখানা বন্ধ থাকায় একিউআই পৌঁছয় ৫৮-তে।
কিন্তু ১৬ এপ্রিল থেকে ফের দিল্লির বাতাসের গুণমান খারাপ হতে শুরু করছে। অথচ মেয়াদ বেড়েছে লকডাউনের। এআইকিউ ইনডেক্স অনুসারে ১৫ এপ্রিল বাতাসের গুণমান ছিল একেবারে ‘সিভিয়ার’ ক্যাটেগরির দোরগোড়ায়। আর এপ্রিলের ১৬ তারিখ থেকে ফের এআইকিউ ইনডেক্স পৌঁছে গিয়েছে ‘আনহেলদি’ বা ‘অস্বাস্থ্যকর’ জোনে। মূলত এই ১৫ এপ্রিল থেকেই দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হয়েছে দেশে। চলবে ৩ মে পর্যন্ত।
কিন্তু লকডাউনের মধ্যে যেখানে বাকি শহরে দূষণের মাত্রা কমছে সেখানে দিল্লির বাতাসের গুণমান খারাপ হচ্ছে কী ভাবে-----
পরিবেশবিদরা বলছেন এর পিছনে মানবজাতির হাত নেই। বরং সমস্ত কলকাঠি নাড়ছে প্রকৃতিই। বুধবার থেকে দিল্লির বাতাসের গুণমানের এ হেন পরিবর্তনের কারণ ধুলোঝড়। মূলত দেশের পশ্চিমভাগ থেকে দিল্লির দিকে ধেয়ে আসছে এই শুষ্ক ধুলোঝড়। আর এর জেরেই ক্রমশ রাজধানী শহরের বাতাসের গুণমান কমছে। সফর (SAFAR)-সিস্টেম অফ এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড ওয়েদার ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চের তরফে জানানো হয়েছে এমনটাই। পশ্চিমাঞ্চলের রুক্ষ এলাকা থেকে ধূলিকণা সম্মৃদ্ধ এই বায়ু ধেয়ে আসার কারণেই ক্রমশ খারাপ হচ্ছে দিল্লির বাতাসের কোয়ালিটি বা গুণমান।