গ্রেফতারির হাত থেকে 'সুরক্ষা' নেই জামিয়ার বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের, জানাল দিল্লি হাই কোর্ট
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেফতারি-সহ কোনওরকম ব্যবস্থার থেকে সুরক্ষা পাবেন না জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সুরক্ষার আর্জি খারিজ করার পর দিল্লি পুলিশ এ
শেষ আপডেট: 19 December 2019 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেফতারি-সহ কোনওরকম ব্যবস্থার থেকে সুরক্ষা পাবেন না জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সুরক্ষার আর্জি খারিজ করার পর দিল্লি পুলিশ এবং রাজ্য সরকারকে নোটিসও পাঠিয়েছে আদালত। সেখানে রবিবার সন্ধ্যায় জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক কী হয়েছিল তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার ১৫ ডিসেম্বর। তার আগে থেকে নাগরিকত্ব সংশধনী আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফুটছিল গোটা দেশ। ক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছিল দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও। শুক্রবার থেকে আন্দোলনে নামেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পড়ুয়ারা। রবিবার তা চরম আকার ধারণ করে। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে যায় একাধিক রাস্তা। প্রভাব পড়ে যানচলাচলে। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাজধানী শহরের একটা বড় অংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ। তবে পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের আন্দোলন প্রতিহত করতে লাঠিচার্জ থেকে কাঁদানে গ্যাস সবই প্রয়োগ করে পুলিশ।

এরপরেই ক্রমশ চড়তে থাকে অশান্তির পারদ। পুলিশের অভিযোগ, জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় তাঁদের। পাল্টা অভিযোগ করে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা বলেন পুলিশ তাঁদের তাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর বিনা অনুমতিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে বিশাল পুলিশবাহিনী। মারধর করে পড়ুয়াদের। বন্ধ করে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন গেট। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে চিফ প্রোক্টর ওয়াসিম আহমেদ খানের অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশবাহিনী ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে কোনও অনুমতি ছাড়াই। আমাদের কর্মী এবং ছাত্রদের মারধর করা হয়। তাঁদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেদিন বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।
রবিবার সন্ধের এই ঘটনার পরেই একাধিক পিটিশন জমা পড়ে দিল্লি হাই কোর্টে। অন্তত ৬টি পিটিশনে অভিযোগ ওঠে যে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অনেক পড়ুয়া। মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট এবং ক্ষতিপূরণেরও দাবি তোলেন তাঁরা। এইসব পিটিশনেরই শুনানি ছিল বৃহস্পতিবার। সেখানেই জাস্টিস ডি এন পাটেলের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে গ্রেফতারি-সহ কোনওরকম ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা পাবেন না জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা। আদালতের এই নির্দেশ শোনা মাত্র কোর্টরুমে উপস্থিত প্রায় সব আইনজীবীই ‘শেম শেম’ বলে স্লোগানিং করতে থাকেন।