দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিফ স্পোর্টস অফিসার ও কোচের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌনহেনস্থা ও ভয় দেখানোর অভিযোগ তুললেন সেন্ট্রাল পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স বা সিআরপিএফ-এর এক মহিলা কুস্তিগীর। ৩০ বছরের ওই কুস্তিগীর সিআরপিএফ-এর চিফ স্পোর্টস অফিসার তথা অর্জুন পুরস্কার জয়ী খজন সিং ও কোচ সুরজিত সিংয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন। এই বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একটি সেক্স র্যাকেট চালাতেন খজন ও সুরজিত। অনেকের সঙ্গেই এই ধরনের ঘটনা তাঁরা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই কুস্তিগীর।
৩ ডিসেম্বর বাবা হরিদাস পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা হয়েছে ওই এফআইআর। ২০১০ সালে বাহিনীতে যোগ দেওয়া ওই কনস্টেবলের অভিযোগ, এভাবে মহিলা কনস্টেবলদের হেনস্থা করে পরে ভয় দেখিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতেন দুই অফিসার।
পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, “আমি স্নান করার সময় লুকিয়ে আমার নগ্ন ছবি তোলেন দুই অফিসার। তারপরে সেই ছবি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করা হত। তাঁরা ভয় দেখান আমি মুখ খুললে সেই সব ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবেন। এভাবে ভয় দেখিয়ে আমাকে তিন বছর ধরে ধর্ষণ ও যৌনহেনস্থা করছেন তাঁরা।”
মহিলা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে সিআরপিএফ-এর আইজির কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। কিন্তু তখন জোর করে তাঁকে অভিযোগ তুলতে বাধ্য করেন তাঁরা।
সিআরপিএফ-এর মুখপাত্র মোসেস দিনাকরণ জানিয়েছেন, “একজন মহিলা কনস্টেবল ডিআইজি খজন সিং ও কোচের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগ খুব গুরুত্ত্ব দিয়ে দেখছে সিআরপিএফ। ইতিমধ্যেই একটি আভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে রয়েছেন এক আইজি র্যাঙ্কের অফিসার। এই কমিটি তদন্ত করে দেখবে। সেই সঙ্গে দিল্লি পুলিশকেও সব ধরনের সাহায্য করবে বাহিনী।”
ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (দ্বারকা) সন্তোষ কুমার মীনা জানিয়েছেন, “অভিযোগ অনুযায়ী আমরা একটা মামলা দায়ের করেছি। তদন্ত শুরু হয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী মহিলা দূরে থাকায় তাঁর বয়ান লিপিবদ্ধ হয়নি।
যদিও দেশে-বিদেশে একাধিক পদক জয়ী ওই কনস্টেবলের আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসার খজন সিং। অবশ্য সুরজিত সিং এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
১৯৮৬ সালে সিওল এশিয়ান গেমসে ২০০ মিটারের সাঁতার প্রতিযোগিতায় ভারতের জন্য রুপো জিতেছিলেন খজন সিং। ১৯৫১ সালের পরে সাঁতারে সেটাই ছিল ভারতের প্রথম পুরস্কার। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।