এবছরেই ভারতে করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। যদিও রাশিয়া এর মধ্যে দাবি করেছে, ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেছে তারা। কিছুটা সেই পথে হেঁটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন দাবি করলেন, এই বছরের
শেষ আপডেট: 23 August 2020 02:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। যদিও রাশিয়া এর মধ্যে দাবি করেছে, ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেছে তারা। কিছুটা সেই পথে হেঁটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন দাবি করলেন, এই বছরের শেষেই ভারতেও করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।
শনিবার উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের অধীনে একটি ১০ বেডের কোভিড ১৯ হাসপাতালের উদ্বোধনে একথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের একটি কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন এই মুহূর্তে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এই বছরের শেষেই একটি ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে।”
হর্ষ বর্ধন আরও বলেন, “আমি এটা জানাতে পেরে খুবই আনন্দিত যে এই লড়াইয়ে আট মাসের মধ্যে সবথেকে বেশি সুস্থতার হার ভারতের। দেশের সুস্থতার হার ৭৫ শতাংশ। ইতিমধ্যেই ২২ লাখের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। আরও সাত লাখ মানুষ খুবই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
কেন্দ্রের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, “আমরা পুনেতে কেবলমাত্র একটি ল্যাবরেটরি দিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়িত আমাদের টেস্টের ক্ষমতা বাড়িয়েছি। আজ ভারতে ১৫০০ ল্যাবরেটরি রয়েছে। শুক্রবার ১০ লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।”
এর আগে ভারতের মৃত্যুহার নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতে করোনায় মৃত্যুহার বিশ্বে সবথেকে কম। এই মৃত্যুহার কম হওয়া প্রমাণ করে ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা কতটা উন্নত। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি। দেশের সুস্থতার হারও তুলে ধরেছিলেন ডক্টর হর্ষ বর্ধন। ফের তাঁকে সুস্থতার হার নিয়ে কথা বলতে শোনা গেল।
১৫ অগস্ট লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, দেশে এই মুহূর্তে তিনটে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। এই ট্রায়াল বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা একবার সবুজ সঙ্কেত দিলেই তার বন্টন শুরু হবে। কী ভাবে দেশবাসীর মধ্যে তা দেওয়া হবে, যাতে সবাই এই ভ্যাকসিন পান তার রূপরেখা কেন্দ্র ইতিমধ্যেই তৈরি করে রেখেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অবশ্য এর মধ্যেই ভারতে প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, শনিবার নতুন করে ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যা এযাবৎ সর্বাধিক। ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে ভারতে। শনিবার পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৭৯৪ জন। ভারতে করোনায় মৃত্যুহার ১.৮৭ শতাংশ।
অন্যদিকে শনিবার নতুন করে সুস্থও হয়েছে উঠেছেন ৬৩ হাজার ৬৩১ জন। ভারতে মোট সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা ২২ লাখ ২২ হাজার ৫৭৭ জন। এই মুহূর্তে দেশে সুস্থতার হার ৭৪.৬৯ শতাংশ। এই সুস্থতার হারও প্রতিদিনই বাড়ছে।