দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিমধ্যেই ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০০ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০। এই অবস্থায় কোন বয়সের মানুষের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কী রকম তার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আর এই তথ্যে দেখা যাচ্ছে করোনা আক্রান্তের পরিমাণ যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশি হলেও মৃত্যুর পরিমাণ বেশি বয়স্কদের মধ্যেই।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পুণ্য সলিল শ্রীবাস্তব সাংবাদিক সম্মেলন করে এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, “ভারতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৪৭ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নীচে। ৩৬ শতাংশ আক্রান্ত ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ও ১৯ শতাংশ করোনা আক্রান্তের বয়স ৬০ বছরের বেশি। কিন্তু মৃত্যুর হিসেবে ৪০ বছরের নীচের করোনা আক্রান্তদের মাত্র ৭ শতাংশ মারা গিয়েছেন। ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩০ শতাংশ। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ৬৩ শতাংশ ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষ।” অর্থাৎ আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের ছবিটা ঠিক উল্টো।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট করোনা আক্রান্তের ট্রেন্ডে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের পার্থক্য থাকলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে সব দেশের ছবিই এক। বয়স্ক মানুষদেরই মৃত্যু হচ্ছে বেশি। এর কোনও কারণ না ব্যাখ্যা করলেও ডাক্তাররা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। সেইসঙ্গে বার্ধক্যজনিত অনেক অসুখ হয়। আর তারফলেই মৃত্যুও বয়স্কদের মধ্যেই বেশি।
এছাড়া লিঙ্গভিত্তিক হিসেবও দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ভারতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ পুরুষ ও ২৪ শতাংশ মহিলা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে পুরুষেরা পরিমাণ ৭৩ শতাংশ ও মহিলাদের পরিমাণ ২৭ শতাংশ।”
এর সঙ্গেই আরও একটি তথ্য দেন পুণ্য সলিল শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, “ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়ে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের ৮৬ শতাংশ মানুষের শরীরে ডায়াবেটিস, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, কিডনির সমস্যা প্রভৃতি ছিল।” অর্থাৎ এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বয়স্ক মানুষ ছাড়াও কম বয়সীদের মধ্যেও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তার ফলে তাঁরাও এই ভাইরাসের মোকাবিলা করতে পারেননি।