দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির নিজামুদ্দিনের মসজিদে তবলিঘ-ই-জামাতের জমায়েত ঘিরে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে ভারতের করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ১৪৪৫ জন জামাতের সদস্য। এখনও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে লুকিয়ে রয়েছেন জামাত সদস্যরা। তাঁদের খোঁজ চলছে। এরমধ্যেই চরম হুঁশিয়ারি শোনালো অসম সরকার। জানিয়ে দেওয়া হল, লুকিয়ে থাকা জামাত সদস্যরা বেরিয়ে এসে চিকিৎসা না করালে তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হবে।
অসম সরকারের তরফে সোমবার এই চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অসমে থাকা জামাত সদস্যরা মঙ্গলবার সকাল ৬টার মধ্যে যদি নিকটবর্তী জেলা হাসপাতালে না যান, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হবে। ইতিমধ্যেই অসম জুড়ে এই জামাতের জমায়েতে যোগ দেওয়া সদস্যদের খোঁজ চলছে। কিন্তু এখনও অনেকে লুকিয়ে আছেন বলেই প্রশাসনের ধারণা।
রবিবার অসমের দারং জেলা থেকে ৯ জামাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি তাঁরা। অসমের পুলিশ প্রধান ভাস্কর জ্যোতি মাহাতো বলেছেন, “ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে খোঁজ চলছে। আমরা প্রথমে ৮০ জন সদস্যের খোঁজ করছিলাম। যত খোঁজ হয়েছে সংখ্যা বেড়েছে। আরও সদস্যের নাম আমরা পেয়েছি। এই করে সংখ্যাটা ৩৮০তে দাঁড়িয়েছে। এখনও ৩০ জন লুকিয়ে আছেন। তাঁদের খোঁজার জন্য আমরা বিশেষ দল গঠন করেছি। এই বিষয়ে আমরা মুসলিম জনগণেরও সাহায্য নিয়েছি।”
পুলিশ প্রধান আরও বলেন, “আমরা ফোনের টাওয়ার লোকেশন দেখে জানতে পেরেছি আরও অন্তত ৫০০ জন ওই জমায়েতের সময় মসজিদের কাছেই ছিলেন। তাঁদেরকেও খোঁজা হচ্ছে। আমরা একটা ডেডলাইন দিয়েছি। এই ডেডলাইনের পরেও যদি কেউ লুকিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইপিসির ৩০৮ ধারায় খুনের মামলা দায়ের করা হবে।”
এই মুহূর্তে অসমে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৬। তার মধ্যে ২৫ জনেরই ওই জমায়েত যোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, “আমরা অসমের তবলিঘ-ই-জামাত কমিটির সঙ্গে অনেকগুলো বৈঠক করেছি। ইতিমধ্যেই জমায়েতে যোগ দেওয়া বেশিরভাগ সদস্যই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখনও কিছু সদস্য লুকিয়ে রয়েছেন। এটা গোটা রাজ্যের কাছেই আতঙ্কের। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”