দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনার সব দায় চিনের উপর চাপাল ভারত। জুন মাস থেকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরেও এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্রে আসতে পারেনি দু’দেশ। আর তার প্রধান কারণ হিসেবেও সীমান্তে চিনের কার্যকলাপকেই দায়ী করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের অভিযোগ, চিনের কার্যকলাপের ফলেই দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি ভঙ্গ হচ্ছে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “গত ছ’মাস ধরে আমরা যে পরিস্থিতি দেখছি তার একমাত্র কারণ হল চিন। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চিনের কার্যকলাপের ফলেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত-চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যে দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি রয়েছে তা বিঘ্নিত করছে চিনের এই কার্যকলাপ।”
ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সমস্যার জন্য ফের একবার ভারতকে দায়ী করেছে চিন। তারই জবাব দিতে গিয়ে এই কথাগুলো বলেন অনুরাগ শ্রীবাস্তব। তিনি আরও বলেন, “গত সপ্তাহেও আমি বলেছিলাম, মোদ্দা কথা হল ১৯৯৩ ও ১৯৯৬ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তে কীভাবে শান্তি বজায় রাখা যায় তা দুই দেশকেই মনে রাখতে হবে। এই চুক্তির প্রথম শর্তই হল সীমান্তে বেশি সেনা মোতায়েন করা যাবে না। অথচ সেই কাজটাই করছে চিন। তারা বারবার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে।”
অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, “চিনের তরফে বলা হয়েছে সীমান্ত এলাকায় সমস্যা মেটানোর জন্য ও শান্তি বজায় রাখার জন্য দু’দেশের উচিত চুক্তি অনুযায়ী কাজ করা এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো। আমরা আশা করছি নিজেদের বলা কথা নিজেরা রাখবে চিন।”
গত ছ’মাস ধরে আলোচনার পরেও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। কিন্তু আগামী দিনে একটা সমাধান পাওয়া যাবে বলেই আশাবাদী ভারত। অনুরাগ আরও বলেন, “কূটনৈতিক ও সেনার পর্যায়ে এখনও আলোচনা চালাচ্ছে দু’দেশ। আমরা আশা করছি আগামী দিনে এই আলোচনার মাধ্যমেই সীমান্তে সমস্যা মেটাতে ও সব সংঘাতের এলাকায় শান্তি স্থাপনে রাজি হবে দু’দেশ।”
ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা শুরু হয়েছে মে-জুন মাস থেকে। জুন মাসে চিনা সেনার অতর্কিতে হামলায় ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হওয়ার পর থেকে সেই সংঘাত অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে দু’দেশই। অবশ্য একের পর এক আলোচনা চললেও নিজেদের আগ্রাসী মনোভাব থেকে সরছে না চিন। তাই ভারতের তরফেও তার জবাব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভারত আশাবাদী, নিজেদের আগ্রাসী মনোভাব ছেড়ে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে উদ্যোগী হবে চিন। যদিও এখনও পর্যন্ত তার কোনও লক্ষণ চোখে পড়ছে না।