দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া ও গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মাকে খুনের অভিযোগ অভিযুক্ত বহিষ্কৃত আম আদমি পার্টির বিধায়ক তাহির হুসেইন আত্মসমর্পণ করলেন। বৃহস্পতিবার দিল্লি আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। তারপর সেখানেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে হিংসার ঘটনা চলাকালীন জাফরাবাদে নিজের বাড়ির কাছেই নিখোঁজ হন গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মা। পরের দিন সেখানে একটা ড্রেনের মধ্যে থেকে অঙ্কিতের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরে ময়নাতদন্তে দেখা যায় ৪০০ বার কোপানো হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনায় তাহির হুসেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অঙ্কিতের বাবা রবীন্দ্র শর্মা। তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করে বলেন, তাহিরের লোকেরা খুন করেছে তাঁর ছেলেকে।
এই ঘটনায় তাহিরকে দায়ী করেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রও। তিনি অভিযোগ করেন, নিজের বাড়ি থেকে দিল্লিতে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন তাহির হুসেইন। তাঁর বাড়ির ছাদ থেকে পেট্রোল বোমা ও পাথর ছুড়তে দেখা গিয়েছে। তাঁকেও সেখানে দেখা গিয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসা বাড়ানোর দায় তাহিরের। যদি কিছু না করে থাকবেন তাহলে বাড়ি ছেড়ে কেন পালিয়ে গেলেন তিনি।
অন্যদিকে ঘটনার পরেই একটি ভিডিও বার্তায় তাহির জানান তিনি নির্দোষ। তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর বাড়ির ছাদে যাদের দেখা গিয়েছে, তারা কেউই তাঁর পরিচিত নয়। বাইরের ক্ষুব্ধ মানুষ তাঁর বাড়ির ছাদে উঠেছিল। তাদের সেখান থেকে নামাতে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরে তাঁদের সেখান থেকে অন্য সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তাহিরের এই বক্তব্য প্রথমে সমর্থন করে পুলিশ। উত্তর-পূর্ব দিল্লির অতিরিক্ত কমিশনার অজিত সিংলা বলেন, তাঁদের দলই তাহির ও তাঁর পরিবারকে সেখান থেকে বাঁচিয়ে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। যদিও পরে একটা বিবৃতি দিয়ে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, তাঁরা খবর পেয়েছিলেন ক্ষুব্ধ জনতারা তাহির হুসেইনকে ঘিরে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর বাড়ি গিয়ে দেখা যায় বাড়ির ভিতরেই তিনি রয়েছেন।
এই ঘটনার পরে অবশ্য তাহিরকে দল থেকে বহিষ্কার করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, এই হিংসার ঘটনায় কোনও আপ নেতা যুক্ত থাকলে তাঁর দ্বিগুণ শাস্তি হবে।