দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর আগের ঘটনা মনে পড়ে!
দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ে নিয়ে সেদিন ব্যস্ত হিমাচলের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংহ। একটি সম্পত্তি মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে বীরভদ্রের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআইয়ের টিম!
পরে সেটাই ভোট অস্ত্র করেছিল বিজেপি। দুর্নীতি দমনের প্রশ্নে স্বচ্ছতার আসনে বসতে চাওয়া সেই বিজেপি-রই রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে এ বার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হিমাচলের প্রাক্তন স্বাস্থ্য মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব বিন্দালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবায় দুর্নীতির ঘটনার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে জল ঘোলা হতেই তাঁকে অবিলম্বে রাজ্য বিজেপি সভাপতির পদ ছাড়ার নির্দেশ দেয় দিল্লি। সূত্রের মতে, এ ব্যাপারে হিমাচল থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কিছু কাগজপত্র ও চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে। তার পর প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে বিজেপি-র শীর্ষ স্তরে বিন্দালকে সরানোর সাফ বার্তা দেওয়া হয়। তার পরই ইস্তফা দেন বিন্দাল।
হিমাচলের প্রাক্তন ডিরেক্টর অব হেল্থ সার্ভিসেস এ কে গুপ্তার একটি অডিও টেপ সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। তাতে শোনা যাচ্ছে, এক ব্যক্তির থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন তিনি। এও শোনা গিয়েছে, এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কথা বলছেন গুপ্তা। অন্য ব্যক্তি বলছেন, তিনি ‘সামান’ মানে জিনিস নিয়ে এসেছেন। গুপ্তা তখন তাঁকে প্রশ্ন করছেন, ‘কিতনে লায়ে হো।’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলছেন, পাঁচ লাখ। আর গুপ্তার তার পর বলছেন, ‘ওকে রাখ দো’। ওই টেপ ফাঁস হওয়ার পর এ কে গুপ্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দ্য ওয়াল অবশ্য ওই অডিও টেপ যাচাই করেনি। তবে হিমাচলের রাজ্য রাজনীতিতে ওই টেপ নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, গুপ্তা ও অপর ব্যক্তি বিন্দালের ঘনিষ্ঠ। বিন্দাল যখন রাজ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন তখন থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা। স্বাস্থ্য দফতরে এই যুগলের দুর্নীতির অনেক কিসসা রয়েছে বলেও অভিযোগ বিরোধীদের।
পেশায় চিকিৎসক রাজীব বিন্দাল। '৯৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সোলান টাউন পরিষদে গাড়ির চালক এবং মিটার রিডার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের ভিজিলেন্স দফতর মামলা করেছিল। পরে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
বুধবার বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে যে ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছেন বিন্দাল তাতে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, প্রাক্তন স্বাস্থ্য কর্তা গ্রেফতারের পর বিজেপির বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে যাতে কারও সন্দেহ না থাকে সেই কারণে নৈতিকতার প্রশ্নে রাজ্য বিজেপি সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।
অতীতে ভিডিও টেপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় বিজেপি-র আর এক রাজ্য সভাপতিকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। তিনি দিলীপ সিংহ জুদেও। ভিডিও টেপে দেখা গিয়েছিল, মোটা টাকা ঘুষ নিচ্ছেন জুদেও। তার পর গোঁফ পাকাতে পাকাতে বলছেন, প্যায়সা খুদা তো নেহি, মাগার খুদা কি কসম, খুদা সে ভি কম নেহি!