দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যরাতে রাজস্থানের রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন দুপুর রোদে মরুভূমির মতোই তপ্ত!
শুক্রবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলল চাপানউতোর। বিধানসভা অধিবেশন ডাকার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের নেতৃত্বে কংগ্রেস বিধায়করা প্রায় চার ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখলেন রাজভবন। ১০২ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে বলে রাজ্যপালকে তালিকা দিয়েছেন গেহলট। সেইসঙ্গে রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন—সোমবার থেকে রাজস্থান বিধানসভার অধিবেশন ডাকা হোক।
পাল্টা রাজস্থানের রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ২১ দিনের নোটিস না দিয়ে বিধানসভার অধিবেশন ডাকা যায় না। তিনি সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করবেন না। সেইসঙ্গে তিনি এও বলেছেন, যে ভাবে রাজভবন ঘেরাও করা হয়েছে তা সাংবিধানিক রীতিনীতির পরম্পরা নয়।
চার ঘণ্টা ঘেরাওয়ের পর রাজভবনের বাইরে এসে শুক্রবার রাতে গেহলট বলেন, রাজ্যপাল বলেছেন তিনি অধিবেশন ডাকবেন। তাই অ্যাজেন্ডা ঠিক করতে আজ রাতেই মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেই বৈঠকে ঠিক হয় কোভিড পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক বিপর্যয়-সহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি নিয়ে বিধানসভা অধিবেশনে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে শুক্রবার রাতে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে দাবি জানিয়েছেন, বিজেপির খেলা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তারা যে অশোক গেহলট সরকারকে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র করছিল এ ব্যাপারে এখন কোনও সন্দেহ নেই। এবার রাজস্থানের রাজ্যপাল বিধানসভার অধিবেশন ডাকুন।
মধ্যরাতে রাজভবনের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, অল্প সময়ের বিজ্ঞপ্তিতে রাজস্থান বিধানসভার অধিবেশন ডাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম মাফিক তা করা যায় না। কারণ অধিবেশন ডাকতে অন্তত ২১ দিন আগে নোটিস দিতে হয়। তা ছাড়া রাজ্যপাল আরও বলেন, অধিবেশনের চিঠি নিয়ে কোনও রকম আলোচনা হওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে অধিবেশন শুরু হবে, তা জেনে তিনি ‘দুঃখিত ও ব্যথিত।’
রাজ্যপালের উদ্দেশে কার্যত হুঁশিয়ারি ছুড়ে দিয়েই গেহলট গতকাল বলেন, “এরপর যদি রাজস্থানের সাধারণ মানুষ রাজভবন অবরুদ্ধ করেন তাহলে আমার কিছু করার থাকবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন বক্তব্য নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কলরাজ মিশ্র। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল পুদুচেরির মতো বিরোধী সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করতে বিজেপি রাজ্যপালদের ব্যবহার করছে এই অভিযোগ নতুন নয়। রাজস্থানেও প্রায় একই অভিযোগ তুলছে কংগ্রেস। তবে গেহলট যে তালিকা দিয়েছেন, তা দেখে অনেকেই বলছেন তাঁর সরকার সুতোর উপর ঝুলছে। ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় ১০১ ম্যাজিক ফিগার। যদিও কংগ্রেসের দাবি, অন্যান্য দল ও নির্দল বেশ কিছু বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সংখ্যা নিয়ে তাদের কোনও চিন্তা নেই। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট আবার হাইকোর্ট ঘুরে রাজস্থানের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার আছড়ে পড়ল রাজভবনের উঠোনে।