দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারবার আবেদন করার পরেও আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় জামিন পাননি প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। বরং দিল্লি হাই কোর্টের তরফে বলা হয়েছে তাঁকে জামিন দেওয়া হলে দেশবাসীর কাছে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছবে। এবার নিজের জামিন না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং চিদম্বরম। তিনি বলেন, “আদালতের রায়ে বলা হয়েছে আমায় জামিন দিলে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছবে। হে ভগবান, আমি যেন রঙ্গা এবং বিল্লার মতো অপরাধী।“
কে এই রঙ্গা এবং বিল্লা?
১৯৭৮ সালে দিল্লিতে এক নেভি অফিসারের ছেলে এবং মেয়ে সঞ্জয় এবং গীতা কাপুরকে অপহরণ করে কুলজিৎ সিং ওরফে রঙ্গা খাউস এবং জসবীর সিং ওরফে বিল্লা। উদ্দেশ্য ছিল মোটা টাকা মুক্তিপণ আদায় করা। কিন্তু অপহরণের সময় রঙ্গা এবং বিল্লা জানত না যে এই দুই নাবালক-নাবালিকার বাবা নৌসেনার একজন অফিসার। একথা জানার পরেই ভয় পেয়ে যায় দুই অপহরণকারী। তারপর নৃশংস ভাবে সঞ্জয় এবং গীতাকে খুন করে রঙ্গা এবং বিল্লা। ১৯৮২ সালে রঙ্গা এবং বিল্লাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় আদালত।
দুই অপহরণকারীর নৃশংসতা দেখে সেসময় শিউরে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। এত বছর পর ফের ওই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিলেন চিদম্বরম। বারবার আবেদনের পরেও তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়নি দিল্লি হাই কোর্টে। জামিন না পাওয়ার ক্ষোভে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেন, “মনে হচ্ছে আমি যেন রঙ্গা এবং বিল্লার মত অপরাধী”।
গত ২১ অগস্ট বাড়ির পাঁচিল টপকে ৭৪ বছর বয়সী বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করে সিবিআই। আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তছরূপের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। প্রাথমিক ভাবে সিবিআই হেফাজতেই ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর গত ৫ সেপ্টেম্বর চিদম্বরমকে তিহাড় জেলে পাঠায় সিবিআই। ইতিমধ্যেই দিল্লির বিশেষ আদালতে চিদম্বরমকে গ্রেফতারের আবেদন জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। আদালত তা মঞ্জুর করে। এরপর ১৬ অক্টোবর জেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। আপাতত ইডির হেফাজতেই রয়েছেন চিদম্বরম।
দিল্লি হাইকোর্ট চিদম্বরমের জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টে চিদম্বরমের হয়ে জামিনের আবেদন করেন কপিল সিব্বল। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ এস বোপান্না, বিচারপতি আর ভানুমতি এবং বিচারপতি হৃষীকেশ রায়ের বেঞ্চে চিদম্বরমের জামিন আবেদনের মামলার শুনানি হওয়ার কথা। ইডির তরফে এদিন সওয়াল করবেন সলিসিটার জেনারেল অশোক মেহেতা।