দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে রবিবার রাত থেকেই উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লি। যত সময় গড়িয়েছে তত হিংসা বেড়েছে। আগুন জ্বলেছে, প্রাণ গিয়েছে। দিল্লির এই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে কিছু বলতে শোনা যায়নি কয়েক দিন আগেই তৃতীয়বার রাজধানীর মসনদে বসা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। তা নিয়ে শুরু হয়েছিল সমালোচনা। অবশেষে শুক্রবার এই সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণের ঘোষণা করলেন কেজরি। উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়াকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে আম আদমি পার্টি প্রধান জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার দিল্লির মানুষের পাশে আছে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লির সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বেশ কিছু ত্রাণের ঘোষণা করেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনে এই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে অনেকের সর্বস্ব গিয়েছে। খাবার সংস্থান নেই তাঁদের। সেইসব মানুষদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে আমাদের সরকার। জল দেওয়া হচ্ছে। এইসব কাজে অনেক এনজিও আমাদের সাহায্য করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিধায়ক ও অন্যান্য নেতাদের এই কাজ তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
শুধু খাবার বা জল নয়, হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়ে যাওয়া বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্যও তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর বলেই জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। তাঁর কথায়, “এই হিংসায় যাঁদের বাড়ি পুড়ে গিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের বিভিন্ন ত্রাণশিবির ও কমিউনিটি হলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আগামীকালই তাঁদের হাতে আমরা ২৫ হাজার টাকা করে তুলে দেব। পিডবলুডিকে বলা হয়েছে, কার বাড়ি কীরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার রিপোর্ট ২-৩ দিনের মধ্যে তৈরি করতে। সেই অনুযায়ী সবাইকে বাকি টাকাটা দিয়ে দেওয়া হবে।”
কেজরিওয়াল আরও বলেন, তাঁরা খবর পেয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে অনেকেই ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাঁদেরকে সরকারের টাকায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা তদারকির জন্য সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল।
এই কাজের জন্য আপ সরকারের পাশে যে গোটা দিল্লি এগিয়ে এসেছে, সে কথাও জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “অনেক এনজিও সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। অনেক মানুষ আমাকে ফোন করে জানতে চাইছেন কী ভাবে সাহায্য করতে পারবেন। আমি সবাইকে বলছি যাঁরা সাহায্য করতে চান, তাঁরা উত্তর-পূর্ব দিল্লির ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। সেখান থেকেই সবকিছু বলে দেওয়া হবে।"
দিল্লির ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য ত্রাণের আশ্বাস দেওয়ার পরেও অবশ্য সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না কেজরিওয়ালের। অনেকেই বলছেন, এই ধরনের তৎপরতায় যদি কয়েক দিন আগে কেজরিওয়াল দেখাতেন, তাহলে হয়তো এই সংঘর্ষের ঘটনা এত বাড়তে পারত না, এত প্রাণহানিও হত না। সব মিটে যাওয়ার পর এখন ত্রাণ দিলে তো আর ৪২টা প্রাণ ফিরে আসবে না।