দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব, পশ্চিম বা উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে করোনাভাইরাস যতটা ভয়াল আকার নিয়েছে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে কোভিডের প্রকোপ এখনও ততটা নয়। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে জীবজন্তু শিকারের পরিমাণ যে ভাবে বেড়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে তাতে কপালে ভাঁজ পড়েছে বনকর্তাদের। শুধু তো শিকার করা নয়, তার ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে ঘর ছেড়ে জঙ্গলমুখী হচ্ছে জীবজন্তু মারতে।
অরুণাচলপ্রদেশের নাহারালাগুন গ্রামের একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে প্রশাসনের মধ্যে। যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গ্রামের তিন যুবক একটি প্রায় ১০ ফুটের কিংকোবরাকে মেরে নিজেদের মাথা, গায়ে জড়িয়ে ছবি তুলেছে। তার মধ্যেই এক যুবককে বলতে শোনা যাচ্ছে, "লকডাউনের মধ্যে মাংস পাইনি বলে জঙ্গলে গেছিলাম। আশা করি সরকারি আধিকারিকরা কিছু মনে করবেন না। আমরা কিন্তু সাধারণত এসব করি না!"
অরুণাচলের রাজধানী ইটানগরে বন দফতরের সদর কার্যালয়ে বসে এক আধিকারিক এই ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই তিনজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে।
গত শুক্রবার ওই ভিডিও প্রথম নজরে আসে বনকর্তাদের। শনিবার দুপুরে একটি তদন্তকারী দল যায় নাহারালাগুন গ্রামে। ওই সাপটি কী প্রজাতির তা জানতেই গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। তবে মূল অভিযুক্ত যুবক বেপাত্তা বলে জানিয়েছেন বনআধিকারিকরা।
গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু। 'অরুণাচল টাইমস'কে তিনি বলেছেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু অরুণাচল নয়। অসমেও দেখা গিয়েছে ছাল-চামড়া ছাড়ানো লেপার্ডের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে। একটি গ্রাম থেকে লেপার্ডের দেহের টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসমের গোলাঘাট থানার পুলিশ। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে.দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
রবিবার আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে নাগাল্যাণ্ডের জঙ্গলে হরিণ শিকার করছে এক শিকারি। সামগ্রিক ভাবে লকডাউন পর্বে সারা উত্তর-পূর্ব জুড়ে যে ভাবে শিকার বেড়েছে তা উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। বনবিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, এক্ষুণি যদি এই জিনিস থামানো না যায় তাহলে জঙ্গলের শৃঙ্খলের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।