দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর বৈপ্লবিক রোমান্টিসিজমে মুগ্ধ গোটা দুনিয়া। টি শার্ট থেকে কফি মগ, টুপি থেকে জিনসের ব্যাকপকেট—সর্বত্র তাঁর ছবি। সেই কিউবা বিপ্লবের অন্যতম নায়ক, ফিদেল কাস্ত্রো রুজের ‘প্রিয় কমরেড’ চে গুয়েভারার মেয়ে আলেইদা গুয়েভারা বললেন, “চে-র টি শার্ট পরা বাদ দিয়ে আগে তাঁকে গভীর ভাবে জানতে হবে। সমাজ সম্পর্কে তাঁর ধারনার কথা জানতে হবে।”
জুলাই মাসের ২৫ তারিখে ভারতে এসেছেন চে-কন্যা। এখনও তিনি রয়েছেন এ দেশেই। শুক্রবার কেরলের কোচিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আলেইদা। সেখানেই তিনি এ কথা বলেন। ওই সেমিনারে বহু তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশেই আলেইদা বলেন, “এখানে অনেক তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা আছেন। কিন্তু কষ্ট করে খুঁজতে হবে, কতজন মানুষের সঙ্গে নিবিড় ভাবে মিশে গিয়ে কাজ করেন।”
বাবার মতো নিজেও ডাক্তার আলেইদা। অ্যালার্জি মেডিসিনের স্পেশালিস্ট। তিনি জানিয়েছেন, এর পরের বার যখন তিনি আসবেন, তখন একজন দোভাষীকে নিয়ে আসবেন। যাতে মেডিক্যাল টার্মগুলিকে মানুষের কাছে সহজ ভাবে বোঝানো যায়। তিনি ভারতের শিশুদের জন্য কাজ করতে চান বলেও জানিয়েছেন।
আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে জন্মেছিলেন চে। তারপর সেখানেই বড় হয়ে ওঠা। নিজের ইচ্ছেতেই চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়া। কিন্তু পাশ করার পর আর স্টেথো ধরেননি। মোটর সাইকেল নিয়ে লাতিন আমেরিকার অনেকগুলো দেশ ঘোরার পর বাড়িতে জানিয়ে দেন, সমাজে একটা অন্য অসুখ রয়েছে। তাঁর চিকিৎসাবিদ্যা দিয়ে সেই অসুখ সারানো সম্ভব নয়। সেই সময়েই আর্জেন্টিনার এক বন্দরে গ্রানমা জাহাজে ফিদেলদের সঙ্গে দেখা হয়। ভিড়ে যান তাঁদের দলে। কিউবার মানকাডা দুর্গ দখল করে বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটানোর গেরিলাবাহিনীর অন্যতম সদস্য ছিলেন চে। বিপ্লবোত্তর কিউবার প্রথম সরকারের অর্থ ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু বছর তিনেকের মধ্যেই সে সব ছেড়ে চলে যান কঙ্গোর মুক্তিকামী মানুষের আন্দলনে নেতৃত্ব দিতে। সেখান থেকে বলিভিয়া। সেখানেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করে সিআইএ।
এ হেন রোমাঞ্চকর জীবন যাঁর, তাঁকে নিয়ে তরুণ প্রজন্মের যে আগ্রহ থাকবে তা বলাইবাহুল্য। কিন্তু চে-কন্যা স্মরণ করিয়ে দিলেন, বহিরাঙ্গের চাকচিক্য নয়। চে-কে বুঝতে হলে গভীরে যেতে হবে। অনেকটা গভীরে।