দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবা পাগলা তাঁর গানে লিখেছিলেন, “নদী যদি মদ হতো/ তাহলে মাতালে প্যাট ভরে খেতুরি...!”
বাংলার এই লোকগান হয়তো কেরলের ত্রিশূরের চালাক্কুড়ি এলাকার লোকজন শোনেননি। তবে নদী না হোক, জলের ট্যাঙ্ক থেকে পাইপ বেয়ে মদ বেরনোয় হইহই পড়ে গেছে সেখানে! সক্কাল সক্কাল ট্যাপ খুলে জল ভরতে গিয়ে মালুম হয়েছে, আরে মদ মদ গন্ধ! তেমনি ঝাঁঝ! পাশের ফ্ল্যাটেও তাই। তার পাশের ঘরেও। এবং গোটা আবাসনে! ট্যাপ খুলতেই জল মেশানো মদের মতো বেরোচ্ছে হুড় হুড় করে।
একটি আবাসনের ১৮টি পরিবারকে এই বিড়ম্বনায় মধ্যে পড়তে হয়েছে। কেরলের অন্যতম সংবাদমাধ্যম মালায়ালা মনোরমার প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, আবাসনের বাসিন্দারা প্রথমে খবর দেন স্থানীয় প্রশাসনকে। অভিযোগ জানিয়ে তাঁরা বলেন, রবিবার সন্ধে থেকে মদের গন্ধে তাঁরা টিকতে পারছিলেন না। কিন্তু রবিবার রাতে সেই অভিযোগে খুব একটা আমল দেয়নি ত্রিশূরের প্রশাসন। সোমবার সকাল হতে দেখা যায় কল খুললেই কলকল করে মদ বেরোচ্ছে।
ব্যাপারটা কী?
জানা গিয়েছে এই ১৮টি পরিবার যে আবাসনে থাকে, তার পাশেই একটি বার ছিল। ‘রচনা বার’ নামের সেই পানশালা একাধিক আইনি জটিলতায় ছ’বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভিতরে যত মদের বোতল ছিল ‘সিল’ করা অবস্থায় পড়েছিল এই ছ’বছর। হঠাৎ রবিবার দুপুরে শুল্ক দফতরের কর্তারা আসেন ওই বন্ধ পানশালায়। আদালতের নির্দেশে তালা খুলে শুরু হয় বোতলবন্দি মদ নষ্ট করার কাজ। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি।
স্থানীয় প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, ৬ হাজার লিটার মদ ছিল রচনা বারে। নিয়মানুযায়ী, যেখান থেকে ওই মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে, সেখানেই সেগুলি নষ্ট করার কথা। দুপুর দু’টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে মদ নষ্ট করার কাজ। কিন্তু ফেলে দেওয়া মদ ওই পানশানালার নালা দিয়ে গিয়ে মিশে যায় পাশের আবাসনের কুয়োতে। আর সেই কুয়ো থেকে পাম্পে করে জল তোলা হয় আবাসনের জলের ট্যাঙ্কে। তার পর পাইপে করে তা পৌঁছে যায় ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে। ফলে কল খুললেই বেরোচ্ছে মদ।
শেষমেশ ওই ১৮টি পরিবারের আপাতত জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আপাতত কুয়োর জল থেকে মদের ভাব না কাটা পর্যন্ত তাতেই ভরসা রাখতে হবে তাঁদের। অন্যদিকে কুয়ো থেকে জল পাম্প করে সমস্ত মদ বের করার কাজও শুরু হয়েছে। আর হই হই পড়ে গিয়েছে ত্রিশূরে।
এ যেন সেই ভবা পাগলার গান—নদী যদি মদ হতো...