দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোটোশপে এই যুবকের ‘স্কিল’ দেখে তাজ্জব পুলিশ। আরও নানা ফোটো এডিটিং সফটওয়্যারেও অসামান্য দক্ষতা। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মহিলাদের ছবি তুলে তাকে বিকৃত করতে ওস্তাদ ছিল এই যুবক। মেয়েদের ছবি কেটে এমনভাবে পর্ন ছবির সঙ্গে মিশিয়ে দিত যে ধরাই সম্ভব নয়। লাগাতার এক বছর ধরে মহিলাদের ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেল করে গেছে এই অপরাধী। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ জানিয়েছে, কিশোরী থেকে যুবতী, অন্তত ৫০ জন তার ফাঁদে পড়েছে।
অভিযুক্তের নাম রহিম খান। বয়স ১৯ বছর। তদন্তকারীরা বলছেন, এই বয়সেই রহিমের ফোটো এডিটিং স্কিল অসামান্য। যে কোনও ছবিকে নিমেষে বদলে দিতে পারে সে। এক ছবির সঙ্গে অন্য ছবি মিশিয়ে দিতে পারে নিখুঁতভাবে। হঠাৎ করে দেখলে বোঝা সম্ভব নয় ছবিটা আসল না নকল। এই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়ে মেয়েদের ছবি বিকৃত করত রহিম।
হরিয়ানার ফরিদাবাদে বাড়ি। পেশায় কাঠমিস্ত্রী। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে মেয়েদের ফলো করত রহিম। রিকুয়েস্ট পাঠাত। সেই রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করলেই মেয়েদের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি চলে আসত তার জিম্মায়। পুলিশ জানিয়েছে, যেসব মেয়েদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করা থাকত তাদের অন্য নামে ভুয়ো প্রোফাইল থেকে রিকুয়েস্ট পাঠাত রহিম। তারপর আলাপ জমাত। প্রোফাইল ছবি ও অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যান্য ছবি হাতিয়ে নিয়ে সেগুলোকে বিকৃত করত। তারপর সেই ছবি দেখিয়ে মেয়েদের ব্ল্যাকমেল করত। তাদের নগ্ন ছবি দিতে বলত। যে মেয়েরা ছবি দিত না, তাদের সেই বিকৃত ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দিত রহিম।
তদন্তকারীরা বলছেন, নিয়মিত বিভিন্ন পর্ন সাইটে আনোগোনা ছিল রহিমের। সেখান থেকে ছবি তুলে মেয়েদের ছবির সঙ্গে মিশিয়ে দিত। এইভাবেই এক বছর ধরে অন্তত ৫০ জন মহিলাকে ব্ল্যাকমেল করেছে সে। এমনকি কিশোরী মেয়েরাও তার ফাঁদে পড়েছে নানা সময়। টাকাপয়সা নয় মেয়েদের ব্ল্যাকমেল করার সময় তাদের নগ্ন ছবি চাইত রহিম। তদন্তকারীদের অনুমান, এইসব ছবি বিভিন্ন পর্ন সাইটে বিক্রি করত সে।
পুলিশি জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে রহিম। তার বক্তব্য, কোনও অপরাধের জন্য নয়, নিছকই মজা করার জন্য নাকি এই কাজ করত সে। পুলিশ জানিয়েছে, যেসব মহিলারা রহিমের ফাঁদে পড়েছিলেন তাঁরা সকলেই লজ্জা ও ভয়ের কারণে মুখ খোলেননি। অপরাধও তাই সামনে আসেনি। অপরাধীও পার পেয়ে গেছে। পকসো আইন ও আইটি অ্যাক্টের ৬৭বি ধারায় রহিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সে আরও কোনও মেয়েকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছিল কিনা, বা অনলাইনে কোনও মহিলার বিকৃত ছবি আপলোড করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।