দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সকাল থেকেই সীমান্তে চলছে গুলির লড়াই। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নীলম ভ্যালিতে থাকা তিনটি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা, এমনটাই জানালেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান বিপিন রাওয়াত। এই হামলায় ৬ থেকে ১০ জন পাক সেনা খতম হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আরও বেশি সংখ্যক জঙ্গি খতম হয়েছে বলে দাবি করেছেন সেনাপ্রধান।
রবিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিপিন রাওয়াত। সেখানে তিনি বলেন, "নীলম ভ্যালিতে লস্কর ই তইবা ও হিজবুল মুজাহিদ্দিনের বেশ কিছু জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে। সেখানেই হামলা চালায় ভারতীয় সেনা। সেনার ছোঁড়া বোমার আঘাতে তিনটি ঘাঁটি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। একটি ঘাঁটি পুরোপুরি না ভাঙলেও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় ৬ থেকে ১০ জন পাক সেনা নিহত হয়েছে বলে খবর। যা খবর পেয়েছি তাতে তার থেকেও বেশি সংখ্যক জঙ্গি খতম হয়েছে।"
রবিবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল যে যুদ্ধ বিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে কুপওয়ারা জেলায় হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। এ ঘটনায় দুই ভারতীয় সেনা জওয়ান ও এক স্থানীয় গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তা ছাড়া পাক হামলায় সীমান্তের এ পারের গ্রামের দুটি বাড়ি পুরিপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ভারতীয় সেনাও।
শুধু কুপওয়ারা নয়, কাঠুয়াতেও যুদ্ধ বিরতির শর্ত পাকিস্তান লঙ্ঘন করেছে বলে জানা গিয়েছিল। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয় বলে খবর। তারপরেই সন্ধেবেলা এই খবর দেন সেনাপ্রধান। এই হামলাকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যোগ্য জবাব বলে উল্লেখ করেছেন বিপিন রাওয়াত।
গত সপ্তাহেই পাক হামলায় দুই সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। বারামুলা ও রাজৌরিতে সে বার সীমান্তের ওপার থেকে গুলি বর্ষণ শুরু করেছিল পাকিস্তান।
সেনা কর্তাদের বক্তব্য, জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ বিক্ষোভ জানাতে শুরু করেছে ঠিকই। তবে বাস্তব হল, তাদের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি চললেও জুলাই মাসে ২৯৬ বার যুদ্ধ বিরতির শর্ত লঙ্খন করেছে ইসলামাবাদ। অগস্ট মাসে শর্ত লঙ্ঘন করেছে ৩০৬ বার। হিসাব মতো এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০৫০ বার সংঘর্ষ বিরতির শর্ত ভেঙেছে পাকিস্তান। তাতে ২১ জন ভারতীয় সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে ইসলামাবাদকে বহুবার কূটনৈতিক স্তরে বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি।
পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…..