দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে দিন দিন বেড়ে চলেছে আক্রান্তর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে সেই সংখ্যা। প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন একদিনে। কিন্তু দেশের সব জায়গায় সংক্রমণ একই রকমের হচ্ছে না বলেই জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কয়েকটি রাজ্যেই সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। জানানো হয়েছে দেশের পাঁচ রাজ্যেই মোট আক্রান্তের ৬২ শতাংশ রয়েছে। এই পাঁচ রাজ্য হল মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে প্রতি মিলিয়ন অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ব্রাজিলের মতো দেশের তুলনায় অনেক কম। ব্রাজিলের যেখানে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার। সেখানে ভারতে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার।
সাংবাদিকদের সামনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন, “দৈনিক সংক্রমণ বাড়ছে। কিন্তু জনসংখ্যার হিসেবে তা দেখতে হবে। আমরা প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াচ্ছি। এখনও পজিটিভিটি রেট বা নমুনা পরীক্ষার হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে।”
স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন, “দেশের সব জায়গায় ছবিটা এক নয়। তামিলনাড়ুতে ৯০ শতাংশের বেশি আরটি-পিসিআর টেস্ট হচ্ছে। কোনও রাজ্যে কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা বেশি। যদিও আমরা স্বীকার করছি, কিছু রাজ্যে প্রয়োজনের তুলনায় আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কম। আমরা সেদিকে খেয়াল রাখছি। সেই রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”
দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, এই সংক্রমণ বাড়ার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। এত দীর্ঘদিন ধরে মাস্ক পরতে পরতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই অনেকেই মাস্ক খুলে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন। তার সঙ্গে উৎসবের মরসুম শুরু হয়েছে। তাই অনেক মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। আরও একটা কারণ হল, মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ে একটা বিরক্তির ভাবও চলে এসেছে। তাই সুরক্ষার বিধি ততটা মানছেন না তাঁরা। এই কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩ হাজার ৮৮৩ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ লাখ পেরিয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের থেকে মাত্র দেড় লাখ পিছনে রয়েছে ভারত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারতে ব্রাজিলকেও ছাপিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের মধ্যে সবথেকে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে মহারাষ্ট্রে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। তারপরে রয়েছে তামিলনাড়ু, কর্নাটক ও উত্তরপ্রদেশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ভারতে। এর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৬ জন। যদিও এর মধ্যেই আশা যোগাচ্ছে ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও। ইতিমধ্যেই ২৯ লাখের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন দেশে।
গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা ২ কোটি ৫৭ লাখ পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৮ লাখ ৫৬ হাজার। তবে এই সংখ্যাটা সব দেশে এক নয়। অনেক দেশে সংক্রমণ কমছে। তবে কোনও কোনও দেশ সংক্রমণকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।