
শেষ আপডেট: 14 June 2021 12:58
এইএফআই-এর তথ্য আরও জানাচ্ছে, এই প্রায় ছ’মাসের মধ্যে ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ৪৮৮ জনের। তবে মৃতদের অনেকেরই কোমর্বিডিটি ছিল বলেই তথ্যের রিপোর্টে দাবি। যতজনকে টিকার ডোজ নেওয়া হয়েছে এবং তার মধ্যে যতজনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে, সেই হিসেব করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রতি দশ লাখে মাত্র দু’জন।
বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কোভিশিল্ড টিকার ডোজ নেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই দাবি। ১৬ জানুয়ারি থেকে ৭ জুন অবধি ২১ কোটি কোভিশিল্ডের ডোজ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ২৪,৭০৩ জনের মধ্যে (মোট হিসেবে ০.০১%), কোভ্যাক্সিনের আড়াই কোটি ডোজ দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ১৪৯৭ জনের শরীরে। তবে টিকার ডোজে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে মাত্র ২ শতাংশের মধ্যে, আর সঙ্কটজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে বা মৃত্যু হয়েছে ৩.৩৯ শতাংশের।
ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে কী ধরনের শারীরিক সমস্যা হলে অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস বলা যাবে?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনও টিকা নিলেই তার একটা সাময়িক প্রভাব পড়বে শরীরে। কারণ রক্তের মধ্যে এমন উপাদান ঢোকানো হচ্ছে যার সঙ্গে আগে থেকে পরিচিতি নেই শরীরের। কাজেই বিদেশি উপাদানকে সহ্য করে নিতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। তার জন্য হাল্কা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতেই পারে। এটা খারাপ নয়। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাময়িক। আর এটাই হল সঙ্কেত যে টিকা ঠিকঠাক কাজ করছে।
কিন্তু মারাত্মক প্রভাব পড়লে তখনই চিন্তার কারণ হয়েছে। যেমন, টিকা নেওয়ার জায়গায় মারাত্মক র্যাশ, পেশির খিঁচুনি, ক্রমাগত মাথা ঘোরা অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টসের লক্ষণ। সমস্যা যদি গুরুতর হয় তাহলে তীব্র অ্যালার্জি, অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা, হাইপারটেনশন, রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ কমে যাওয়া, রক্তচাপের তারতম্য, এমনকি কিডনি ও স্নায়ুর ক্ষতিও হতে পারে। তবে এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তখনই হবে, যদি শরীরে কোনও দুরারোগ্য ব্যধি থাকে, অথবা, খাবার, ওষুধপত্র ইত্যাদিতে অ্যালার্জির ধাত থাকে।
গবেষকরা বলছেন, পরিবারে কোনও ক্রনিক রোগের ইতিহাস থাকলে বা আগেও কোনও সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন এমন ব্যক্তির এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকতেই পারে। কারণ টিকার মধ্যে অনেকসময়েই এমন উপাদান বা অ্যাডজুভ্যান্ট (টিকার কার্যকারিতা বাড়ায় এমন ইমিউনোলজিক্যাল এজেন্ট)যোগ করে দেওয়া হয় যার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে দেরি হয়। যদি শরীরে কোনও টক্সিক উপাদান থেকে থাকে তাহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এই ধরনের সাইড এফেক্টস খুবই বিরল। কারণ টিকা মানুষের শরীরে দেওয়ার আগে বহুবার পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। বয়স অনুপাতে টিকার ডোজের মাত্রাও নির্ধারণ করা হয়।